একটি শহরের আসল সৌন্দর্য কি শুধু বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানেই?
নাকি শহরের ছোট ছোট গলি, স্থানীয় খাবারের দোকান, ক্যাফে, স্বাধীন ব্যবসা আর মানুষের জীবনযাপনেও লুকিয়ে থাকে তার আসল আকর্ষণ?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই টাইম আউট প্রকাশ করেছে ২০২৬ সালের বিশ্বের ৪০টি সবচেয়ে আকর্ষণীয় পাড়ার তালিকা। আর এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের জংনো ৩-গা।
এটি সিউলের ঐতিহ্যবাহী একটি এলাকা। তবে পুরোনো ঐতিহ্যের পাশাপাশি এখানে তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের খাবার, সংস্কৃতি ও বিনোদনের পরিবেশ।
জংনো ৩-গার ইকসন-দং এলাকায় দেখা যায় শত বছরের পুরোনো হানক—অর্থাৎ ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান বাড়ি। এসব পুরোনো স্থাপনার ভেতরেই রয়েছে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও ছোট ছোট দোকান।
তবে সন্ধ্যার পর এলাকাটির আরেকটি রূপ দেখা যায়। সরু গলিতে বসে রাস্তার খাবারের দোকান বা ‘পোচা’। সস্তা খাবার আর স্বাভাবিক, অনাড়ম্বর পরিবেশের কারণে এসব জায়গায় তরুণদের ভিড় বাড়ছে।
এলাকার সিওসুল্লা-গিল অংশে আবার রয়েছে কারুশিল্পের ওয়ার্কশপ, গয়নার স্টুডিও এবং বার। অর্থাৎ একই এলাকায় পুরোনো সিউল ও আধুনিক সিউল—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই পাওয়া যায়।
টাইম আউটের তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছে মরক্কোর রাজধানী রাবাতের এল ওশান ডিস্ট্রিক্ট। সমুদ্রের পাশে থাকা এই এলাকায় সৈকত, হাঁটার পথ, ক্যাফে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি উন্নত ব্যবসার পরিনেশও রয়েছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্রিসের এথেন্সের নিওস কসমস। অ্যাক্রোপলিস ও এথেনিয়ান রিভিয়েরার মাঝামাঝি এই এলাকায় ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানের সঙ্গে নতুন রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
চতুর্থ স্থানে লস অ্যাঞ্জেলেসের চায়নাটাউন এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর গোভানহিল।
তালিকায় এশিয়ার আরও বেশ কয়েকটি এলাকা রয়েছে। ওসাকার কিতাকাগায়া ষষ্ঠ, টোকিওর কোয়েনজি অষ্টম, হো চি মিন সিটির তান দিনহ দ্বাদশ এবং ব্যাংককের তালাত নই ১৪তম হয়েছে।
ভারতের দিল্লির হুমায়ুনপুর রয়েছে ১৬তম স্থানে, আর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ওয়েস্ট ২৩তম।
টাইম আউট বলেছে, খাবার ও পানীয়, নাইটলাইফ, সংস্কৃতি, স্থানীয় ব্যবসা, বসবাসের পরিবেশ এবং কমিউনিটির মতো বিষয় বিবেচনা করেই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
অর্থাৎ এখানে ‘কুলেস্ট’ বলতে শুধু ফ্যাশনেবল নয়— একটি এলাকার বর্তমান প্রাণবন্ততা, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সেখানে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাকেও বোঝানো হয়েছে।