গরম বাষ্পে ভরা পরিবেশ, মার্বেলের দেয়াল আর গম্বুজের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে আসা নরম আলো— সব মিলিয়ে যেন এক অন্য রকম জগৎ।
কিন্তু তুর্কি হামাম শুধু শরীর পরিষ্কারের জায়গা নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি ছিল মানুষের সামাজিক জীবন ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নারীদের জন্য হামাম ছিল ঘরের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ একটি স্থান।
সাধারণত একটি হামামে তিনটি অংশ থাকে। প্রবেশ ও বিশ্রামের জায়গা, এরপর অপেক্ষাকৃত উষ্ণ একটি অংশ, আর সবশেষে মূল গরম কক্ষ। এই কক্ষের মাঝখানে থাকে উঁচু মার্বেলের প্ল্যাটফর্ম—যাকে বলা হয় গোবেক তাশি। চারপাশে থাকে কুরনা নামে মার্বেলের পানির বেসিন।
হামামের অভিজ্ঞতা শুরু হয় পোশাক বদলে পেশতেমাল নামে বিশেষ তোয়ালে জড়িয়ে। এরপর নারী অতিথিদের দেখাশোনা করেন নাতির, আর পুরুষদের জন্য থাকেন তেল্লাক। গরম মার্বেলের ওপর কিছু সময় শুয়ে শরীর ঘামানো হয়।
এরপর শুরু হয় গরম পানি দিয়ে শরীর ধোয়ার পালা। নাম তুর্কি ‘বাথ’ হলেও এখানে সাধারণ অর্থে কোনো বাথটাব নেই। ছোট বাটি দিয়ে মাথা ও শরীরে পানি ঢেলে পরিষ্কার করা হয়।
এরপর আসে হামামের অন্যতম পরিচিত ধাপ—কেসে। বিশেষ ধরনের রুক্ষ দস্তানা দিয়ে শরীরের মৃত ত্বক ঘষে তুলে ফেলা হয়। তারপর লিফ বা লুফা দিয়ে আরও পরিষ্কার করা হয়।
সবশেষে হয় বিখ্যাত তুর্কি ফোম ম্যাসাজ। সাবান দিয়ে তৈরি ঘন ফেনা পুরো শরীরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঐতিহ্যগতভাবে অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি সাবানও ব্যবহৃত হয়।
চুল ধোয়া শেষ হলে ধীরে ধীরে শরীর মুছে তোয়ালে জড়ানো হয়। হামাম থেকে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে না গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার রীতিও রয়েছে। অনেকে চা পান করে তারপর পোশাক বদলে বের হন।
তাই তুর্কি হামাম শুধু গোসলের অভিজ্ঞতা নয়। এটি বাষ্প, উষ্ণতা, পানি, মার্বেল আর মানুষের সেবার সঙ্গে মিশে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—যেখানে শরীরের পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য মনকেও বিশ্রাম দেওয়া হয়।