উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এসব বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভারি বৃষ্টির কারণে বিচ্ছিন্নভাবে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে অতি ভারি বৃষ্টি বলা হয়।

নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রভ্রমণ ও উপকূলীয় পর্যটনে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলী ও ময়মনসিংহে। সর্বনিম্ন ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সিলেটে।