বর্ষা এলেই খালের পানিতে ভেসে ওঠে পেয়ারা-বোঝাই সারি সারি নৌকা। ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজারে তখন জমে ওঠে ব্যতিক্রমী এক জলজ বাজার। নৌকায় ভেসে ভেসে পেয়ারা কেনাবেচার এই দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমজুড়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১৫টি গ্রামে পেয়ারা ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এসব এলাকার মধ্যে ভীমরুলি গ্রামের স্থানীয় খালে বসে সবচেয়ে বড় ভাসমান পেয়ারা বাজার।

চারপাশের পেয়ারা বাগান থেকে ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে স্থানীয় চাষি ও উদ্যোক্তারা পেয়ারা নিয়ে আসেন। খালের ওপর নৌকা ভাসিয়েই চলে কেনাবেচা। ফলে বাজারটি একই সঙ্গে কৃষিপণ্য বিক্রির স্থান এবং পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিনই পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকায় ঘুরতে আসছেন পর্যটকরা। কেউ ভাসমান বাজারের দৃশ্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে তাজা পেয়ারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পর্যটকদের ভাষ্য, সরাসরি ভীমরুলিতে না এলে এই ভাসমান বাজারের সৌন্দর্য উপলব্ধি করা কঠিন। চারপাশের পেয়ারা বাগান, খাল এবং নৌকায় সাজানো বাজার মিলে তৈরি হয় ভিন্নধর্মী এক পর্যটন অভিজ্ঞতা। এলাকাটিকে আরও পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এর আকর্ষণ বাড়বে বলেও মনে করেন তারা।

স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, বাগান থেকে নৌকাভর্তি পেয়ারা বাজারে আনার পর ফড়িয়া ও আড়তদাররা সড়ক ও নৌপথে এসব পেয়ারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, ভীমরুলির এই ভাসমান পেয়ারা বাজার এশিয়ার অন্যতম ভাসমান বাজার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তাদের মতে, সরকারি বা জেলা পরিষদের উদ্যোগে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা গেলে দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভোরের এই বাজার আরও ভালোভাবে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক সেগুফতা মেহনাজ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এরই মধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে বরিশাল বিভাগের তিন জেলায় পেয়ারা মৌসুমকে ঘিরে বিভিন্ন ভাসমান বাজার বসে। তবে পর্যটকদের কাছে ঝালকাঠির ভীমরুলির বাজারটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।