বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে সরকার কাজ করছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মাধ্যমে কক্সবাজারকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, জেলার অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসন, নিরাপদ পর্যটন পরিবেশ এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক গবেষণা ও শিক্ষা এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কউকের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

স্থান: কক্সবাজার

উপলক্ষ: কউকের আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন

প্রধান ঘোষণা: পর্যটন ও নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের উদ্যোগ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কক্সবাজারে মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা