বর্ষা এলেই বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলনবিল যেন নতুন রূপে জেগে ওঠে। চারদিকে অথই পানি, বিস্তীর্ণ বিল আর নৌকার সারি। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিনই পরিবার, বন্ধু, শিক্ষার্থী ও ভ্রমণপ্রেমীরা ছুটে আসছেন চলনবিলে। নৌভ্রমণকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হয়েছে মৌসুমি পর্যটন অর্থনীতিও।

বাংলাদেশের বৃহত্তম বিলগুলোর একটি চলনবিল আটটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত। বর্ষা মৌসুমে বিলটি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।

চলনবিলের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা পয়েন্ট, হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৯ ও ১০ নম্বর সেতু এলাকা, শাহ শরীফ জিন্দানী (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণ, কুন্দইল পয়েন্ট, সিংড়ার তিশিখালিতে ঘাসি দেওয়ানের মাজার এলাকা, তাড়াশ উপজেলার দোবিলা সেতু, মান্নাননগর ও দিঘীসগুনা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব স্থানে পর্যটকদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

দোবিলা নৌঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে পর্যটকদের জন্য ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের নৌকা প্রস্তুত রাখেন স্থানীয় মাঝিরা। দর্শনার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী নৌকা ভাড়া করা যায়।

দোবিলা নৌঘাটের মাঝি সমশের আলী জানান, রান্নার জন্য গ্যাস, শব্দযন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাসম্পন্ন বড় নৌকা দিনব্যাপী ভাড়া নিতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাগে। এছাড়া ছোট নৌকা ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়া পাওয়া যায়। এর ভাড়া ঘণ্টাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের নৌভ্রমণ শুধু বিনোদনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সেবাদানকারীদের জন্যও বাড়তি আয়ের উৎস সৃষ্টি করে।

এদিকে চলনবিলে ইকো-পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক জানান, "চলনবিল ইকো-পর্যটন" নামে একটি প্রকল্প বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আগামী ৮ আগস্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চলনবিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করবেন।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পরিকল্পিত ইকো-পর্যটন গড়ে তোলা গেলে চলনবিল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জলভিত্তিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

অবস্থান: আট জেলার বিস্তৃত জলাভূমি
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়: বর্ষা মৌসুম
বড় নৌকার ভাড়া: ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা (দিনব্যাপী)
ছোট নৌকার ভাড়া: ঘণ্টাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা