গ্রীষ্মের ব্যস্ততা শেষে শরৎকাল ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অন্যতম উপযুক্ত সময়। আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে, পর্যটকের ভিড়ও কমে যায়। ফলে কম খরচে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্বের নানা প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গন্তব্য ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লোনলি প্ল্যানেট ২০২৬ সালের শরৎ মৌসুমে ভ্রমণের জন্য বিশ্বের ২৩টি সেরা গন্তব্যের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় স্থান পেয়েছে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ওশেনিয়ার নানা আকর্ষণীয় স্থান।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল। শরতে শহরটি রঙিন পাতায় সেজে ওঠে। চেওংগিয়েচন খাল, সিউল ল্যান্টার্ন উৎসব এবং ঐতিহ্যবাহী কিমচি উৎসব এ সময় পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। জাপানের নারা শরতের আরেকটি জনপ্রিয় গন্তব্য, যেখানে নারা পার্কের অবাধে ঘুরে বেড়ানো হরিণ এবং রঙিন শরতের প্রকৃতি ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তোলে।

সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল, পানামার বোকাস দেল তোরো এবং সিশেলস আদর্শ গন্তব্য। শরতে এসব স্থানে সমুদ্র শান্ত থাকে, আবহাওয়া মনোরম হয় এবং ভ্রমণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম থাকে। একই সঙ্গে ডাইভিং, স্নোরকেলিং, প্যারাগ্লাইডিং ও অন্যান্য জলক্রীড়ার সুযোগও মিলবে।
অভিযানপ্রিয় ভ্রমণকারীদের জন্য ইতালির ডলোমাইটসের আলতা ভিয়া ট্রেইল, পেরুর কুসকো অঞ্চল, নেপালের হিমালয় এবং যুক্তরাজ্যের সেন্ট কাথবার্টস ওয়ে অসাধারণ অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে। এসব গন্তব্যে পাহাড়ি ট্রেকিং, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জানতে আগ্রহীদের জন্য মেক্সিকোর ওয়াহাকা, মরক্কোর ফেজ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো এবং তাইওয়ান উল্লেখযোগ্য। ডে অব দ্য ডেড উৎসব, মধ্যযুগীয় নগরী, শিল্প-সংস্কৃতি এবং বিখ্যাত রাতের খাবারের বাজার এসব গন্তব্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী দেখতে চাইলে কেনিয়া, নামিবিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডার প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড হতে পারে আদর্শ পছন্দ। সাফারি, রোড ট্রিপ, সাইকেল ভ্রমণ এবং বিরল বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ শরৎ মৌসুমে আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া স্পেনের মেনোরকা, জর্ডানের লোহিত সাগর উপকূল, আয়ারল্যান্ডের বয়েন ভ্যালি, ফিজি, টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইল রয়্যাল ন্যাশনাল পার্কও ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার জন্য তালিকায় রয়েছে। কোথাও সৈকত, কোথাও স্কুবা ডাইভিং, কোথাও হ্যালোইন উৎসব, আবার কোথাও নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর সুযোগ মিলবে।