টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও যোগাযোগের দুর্ভোগে দেশের দুই প্রধান সমুদ্র পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাতিল হয়েছে হাজারো হোটেল কক্ষের বুকিং। পর্যটকনির্ভর ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হোটেল-রিসোর্ট মালিক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। যারা বেড়াতে এসেছেন, তাদের বেশির ভাগই বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে হোটেল কক্ষে সময় কাটিয়েছেন। ফলে অটোরিকশাচালক, ট্যুর গাইড, ট্যুর পরিচালনাকারী, সৈকতসংলগ্ন দোকানদার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের অলস সময় পার করতে হয়েছে।

কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট এলাকায় কফি বিক্রেতা সজীব জানান, সাধারণত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভালো বিক্রি হলেও টানা বৃষ্টিতে পর্যটক সৈকতে না নামায় তাঁর আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

কুয়াকাটার হোটেল সি প্যালেসের পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বলেন, খুলনা ও মাদারীপুর থেকে আসার কথা থাকা পর্যটকেরা তিনটি কক্ষের বুকিং বাতিল করেছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে আরও বুকিং বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে।

কুয়াকাটায় বর্তমানে ২২০টি আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাঁচ হাজারের বেশি কক্ষ আছে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, হোটেল কক্ষে পর্যটকের উপস্থিতির হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে।

একই পরিস্থিতি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতেও। বৃহস্পতিবার লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ভারী বৃষ্টির কারণে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল কম। সৈকতের চেয়ার-ছাতা, বিচ বাইক, ঘোড়া ও খাবারের দোকানসহ প্রায় সব পর্যটননির্ভর ব্যবসা ছিল স্থবির।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কক্সবাজারে আসা আবিদ হাসান জানান, অতিবৃষ্টির কারণে তারা বেশির ভাগ সময় হোটেলেই অবস্থান করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আগ্রহে বৃষ্টির মধ্যেই ফাঁকা সৈকতে যেতে হয়েছে তাদের।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বাসে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁর তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের কক্ষ বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই গন্তব্য ছাড়ছেন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন খাতে বড় ধস নেমেছে। তাঁর হিসাবে, চার দিনেই জেলার পর্যটন খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার ও কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ীরা এখন আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকের উপস্থিতি ও পর্যটননির্ভর ব্যবসা আবার বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

কুয়াকাটায় হোটেল কক্ষে পর্যটকের উপস্থিতি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। প্রায় ৩০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে। কক্সবাজারে চার দিনে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের কক্ষ বুকিং বাতিল এবং পর্যটন খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।