ভ্রমণস্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের চতুর্থ দুর্বলতম পাসপোর্ট হিসেবে স্থান পেয়েছে পাকিস্তান। এই অবস্থানের কারণে পাকিস্তানি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ভিসা সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে তারা মাত্র ২৯টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমতির সুবিধা পান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ব ও আবাসনবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলে অ্যান্ড পার্টনার্স বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টকে ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যে প্রবেশাধিকারের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে এই সূচক প্রকাশ করে। কোনো দেশের নাগরিক কতটি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই অথবা পৌঁছানোর পর ভিসা নিতে পারেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই র্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়।
সর্বশেষ সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১০১তম। তালিকায় পাকিস্তানের নিচে রয়েছে কেবল ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চীনের অবস্থান ৬০তম, ভারতের ৮১তম এবং ইরানের ৯৬তম।
হেনলি ইনডেক্স অনুযায়ী, পাকিস্তানি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বার্বাডোস, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডোমিনিকা, হাইতি, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, রুয়ান্ডা, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন দ্বীপপুঞ্জ, দ্য গাম্বিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং ভানুয়াতুতে ভিসামুক্ত প্রবেশ করতে পারেন।
এ ছাড়া বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মোজাম্বিক, নেপাল, নিয়ু, পালাউ দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, তিমুর-লেস্টে এবং টুভালুতে পৌঁছানোর পর ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি কেনিয়া, সেশেলস ও শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএর মাধ্যমে প্রবেশের সুযোগ পান।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ১৯২ স্কোর নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, যাদের স্কোর ১৮৮। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সুইডেনের স্কোর ১৮৭।