সাঙ্গু নদে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বান্দরবানের থানচি উপজেলা প্রশাসন। নিবন্ধনহীন নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক ব্যবহার, নিবন্ধিত গাইডের মাধ্যমে ভ্রমণ এবং প্রবেশপথে নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক নৌদুর্ঘটনার পর এসব উদ্যোগকে পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার অংশ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও মাসিক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাঙ্গু নদে চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌকার মালিক ও মাঝিদের নাম-ঠিকানাসহ একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি নৌকার বাধ্যতামূলক নিবন্ধন সম্পন্ন করে দৃশ্যমান স্থানে সিরিয়াল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলীকদম-থানচি সড়কের তিন্দু প্রবেশপথের ২১ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপিত চেকপোস্টে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সাঙ্গু নদে ভ্রমণকারী সব পর্যটকের জন্য লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণকারী বিভিন্ন ইভেন্ট ও গ্রুপকে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকায় নিবন্ধিত গাইড ছাড়া ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলা তথ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনুমোদিত নিবন্ধিত গাইড এবং নিবন্ধিত ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমেই পর্যটকদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যটক পরিবহন বা ভ্রমণের আয়োজন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সাঙ্গু নদ ও থানচি-বড়পাথর এলাকা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণগন্তব্য। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ এবং নদীপথে চলাচলের কারণে নিরাপত্তাবিধি মেনে নিবন্ধিত নৌযান ও প্রশিক্ষিত গাইডের সহায়তায় ভ্রমণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই থানচি উপজেলার তিন্দু হয়ে বড়পাথর এলাকায় সাঙ্গু নদে নিবন্ধনহীন একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই ঘটনায় ১৩ জন পর্যটকের মধ্যে একজন নিহত হন। এরপরই নৌযান চলাচল ও পর্যটক নিরাপত্তা জোরদারে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নিবন্ধন ছাড়া কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান পরিচালনা করা যাবে না।
সব পর্যটকের জন্য লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক।
নিবন্ধিত গাইডের মাধ্যমে ভ্রমণে উৎসাহ দেওয়া হবে।
তিন্দু প্রবেশপথে নিরাপত্তা তদারকি আরও বাড়ানো হবে।
নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।