সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবকাঠামো নির্মাণের কারণে ছয়টি বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল বড় ধরনের হুমকিতে পড়ে গেছে।
এ কারণে সেগুলোকে ইউনেস্কো ‘বিপদাপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খবর: দ্য ইনডিপেনডেন্ট।
ইউনেস্কোর মতে, সশস্ত্র সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব ঐতিহ্যগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং সেগুলোকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বৈঠকে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি স্থানকে বিপদাপন্ন তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
এগুলো হলো— দক্ষিণ সুদানের বোমা–বাদিংগিলো মাইগ্রেটরি ল্যান্ডস্কেপ, লেবাননের মাউন্ট আমেল দুর্গসমূহ এবং ফিলিস্তিনের সেবাস্তিয়া।
বোমা–বাদিংগিলো মাইগ্রেটরি ল্যান্ডস্কেপে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণীর অভিবাসন ঘটে। তবে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্যিকভাবে বন্যপ্রাণী শিকার এবং বন্যপ্রাণী পাচারের কারণে এ এলাকার অভিবাসী প্রাণীগুলো গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে বলে ইউনেস্কোর ভাষ্য।
লেবাননের পাঁচটি মাউন্ট আমেল দুর্গও চলমান সংঘাতের কারণে সংরক্ষণ সংকটে পড়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষা বিষয়ক ইউনেস্কো কমিটি দুর্গগুলোকে বিশেষ সুরক্ষা দিয়েছিল।
ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক শহর সেবাস্তিয়ার প্রধান হুমকি হিসেবে ইউনেস্কো উল্লেখ করেছে পরিকল্পিত সামারিয়া (শোমরন) জাতীয় উদ্যান নির্মাণকে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যস্থলটি বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতও এর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ ছাড়া আগে থেকেই বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া আরও তিনটি স্থান বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনেস্কো।
এগুলো হলো— ইউক্রেনের প্রাচীন শহর টাউরিকা চেরসোনেসে ও এর চোরা, সুরিনামের ঐতিহাসিক পারামারিবোর অভ্যন্তরীণ শহর এবং লেবাননের প্রাচীন বন্দরনগরী টাইর।
ইউনেস্কো বলেছে, রাশিয়ার দখলে থাকার কারণে ইউক্রেনের টাউরিকা চেরসোনেসে ঐতিহ্যস্থলটির যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, পারামারিবোর ঐতিহাসিক শহর এলাকায় ঐতিহ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন না করেই বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি। তাদের মতে, এই সংঘাত প্রাচীন বন্দরনগরী টাইরের জন্যও অব্যাহত হুমকি হয়ে রয়েছে।
বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি ২৭ জুলাই পর্যন্ত বিপদাপন্ন তালিকায় আরও নতুন স্থান অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।