যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন লন্ডন ‘চ্যারিং ক্রস’ ও ‘ওয়াটারলু ইস্ট’ ২২ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। 
রেললাইন ও অবকাঠামোর আধুনিকায়নের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ফলে যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হবে বলে ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে। ২৬ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত স্টেশন দুটি বন্ধ থাকবে। 

রেল অপারেটর সাউথইস্টার্ন রেলওয়ে জানিয়েছে, ২ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের প্রকল্পটি এক প্রজন্মে একবার বাস্তবায়িত হওয়া বড় ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচি।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার নতুন রেললাইন বসানো হবে। এছাড়া ওয়াটারলু ইস্ট স্টেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা, চ্যারিং ক্রস স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পুনর্নির্মাণ এবং ১৭৫ বছর পুরোনো হাঙ্গারফোর্ড ব্রিজের কাঠামোগত মেরামতের কাজ করা হবে।

স্টেশন দুটি বন্ধ থাকায় চ্যারিং ক্রসগামী সাউথইস্টার্ন ট্রেনগুলোকে লন্ডন ভিক্টোরিয়া, লন্ডন ক্যানন স্ট্রিট ও লন্ডন ব্ল্যাকফ্রায়ার্স স্টেশনে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। কিছু ট্রেনের যাত্রা শেষ হয়ে যাবে লন্ডন ব্রিজ স্টেশনেই।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য একই টিকিটে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড, থেমসলিংক (এলিফ্যান্ট অ্যান্ড ক্যাসেল, লন্ডন ব্রিজ ও সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল রুটে) এবং সাদার্ন ট্রেনের নির্দিষ্ট সেবায় ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে।

২৬ জুলাই থেকে সব ধরনের টিকিটধারীরা নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে টিকিটের অর্থ ফেরতের আবেদনও করতে পারবেন।
সাউথইস্টার্ন জানিয়েছে, স্কুল ছুটির সময় যাত্রী সংখ্যা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম থাকে। তাই এই সময়ে কাজ করলে বিকল্প রুট ব্যবহার করে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে যাতায়াত নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ ছাড়া ২২-২৩ আগস্ট এবং ১০-১১ অক্টোবরও ট্রেনগুলো চ্যারিং ক্রস ও ওয়াটারলু ইস্ট স্টেশনে থামবে না।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত রেললাইনগুলো সর্বশেষ ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এখন সেগুলো ক্রমেই অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ত্রুটির কারণে যাত্রীদের ২১ হাজার মিনিটেরও বেশি (প্রায় ৩৫০ ঘণ্টা) বিলম্বের মুখে পড়তে হয়েছে।