বাংলাদেশে জুলাই মানেই টানা বৃষ্টি। তবে একই সময়ে ভারতের কিছু উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থাকে তুলনামূলক শুষ্ক, কারণ সেগুলো বর্ষার বৃষ্টির ছায়া অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে যারা বর্ষার ভেজা আবহাওয়া এড়িয়ে পাহাড়, হ্রদ, বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও নির্মল প্রকৃতির স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য এই পাঁচটি গন্তব্য হতে পারে আদর্শ। ভ্রমণের আগে অবশ্য আবহাওয়া, সড়ক পরিস্থিতি, ভিসা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
১. লেহ-লাদাখ
হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালার মাঝের লাদাখ বর্ষার বৃষ্টির ছায়া অঞ্চলে হওয়ায় জুলাইয়েও এখানে সাধারণত বৃষ্টিপাত খুব কম হয়। রুক্ষ পাহাড়, নীল হ্রদ, প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ এবং মনোমুগ্ধকর উপত্যকার জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্য।
দেখার স্থান: প্যাংগং হ্রদ, নুব্রা ভ্যালি, ম্যাগনেটিক হিল ও বিভিন্ন বৌদ্ধ মঠ।
যাতায়াত: ঢাকা থেকে দিল্লি বা কলকাতা হয়ে লেহে বিমানযোগে পৌঁছানো যায়।
২. স্পিতি ভ্যালি, হিমাচল প্রদেশ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতার স্পিতি ভ্যালিকে বলা হয় 'লিটল তিব্বত'। তিব্বতি সংস্কৃতি, পাহাড়ি মরুভূমির সৌন্দর্য এবং প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ। বর্ষাকালেও এখানে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হয়।
দেখার স্থান: কাজা, কি মনাস্ট্রি, তাবো মনাস্ট্রি, হিক্কিম, কোমিক ও চিচাম সেতু।
যাতায়াত: দিল্লি বা চণ্ডীগড় থেকে সড়কপথে কাজা।
৩. তাওয়াং, অরুণাচল প্রদেশ
প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত তাওয়াং তুষারাবৃত পাহাড়, হ্রদ ও সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। জুলাই মাসের কয়েক সপ্তাহ এখানে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত দেখা যায়।
দেখার স্থান: তাওয়াং মঠ, সে-লা পাস, মাধুরী লেক, বুমলা পাস, জং জলপ্রপাত ও জসবন্তগড়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের ভারতীয় পর্যটক ভিসার পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশের জন্য প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট প্রয়োজন।
৪. লাহাউল ভ্যালি, হিমাচল প্রদেশ
অটল টানেল পার হলেই শুরু হয় লাহাউল উপত্যকা। বর্ষার সময়ও এখানকার আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক ও মনোরম থাকে। রুক্ষ পাহাড়, বৌদ্ধ মঠ এবং নদীঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
দেখার স্থান: সিসু, কেলং, জিসপা, সিসু জলপ্রপাত, সুরাজ তাল, দীপক তাল ও বারালাচা লা।
৫. কিন্নর, হিমাচল প্রদেশ
তিব্বত সীমান্তবর্তী কিন্নর আপেল বাগান, কিন্নর কৈলাশ পর্বত এবং ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। বর্ষাকালে তুলনামূলক কম বৃষ্টির কারণে এটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়।
দেখার স্থান: কল্পা, সাংলা ভ্যালি, রকং পেও, চিতকুল ও ভাওয়া উপত্যকা।
যাতায়াত: দিল্লি বা চণ্ডীগড় থেকে সড়কপথে কিন্নর পৌঁছানো যায়।
ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি
ভারতের এসব পাহাড়ি অঞ্চলের বেশিরভাগই উচ্চতায় অবস্থিত। তাই ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস, সড়কের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। যেসব এলাকায় উচ্চতা বেশি, সেখানে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, উষ্ণ পোশাক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাইয়ে তুলনামূলক শুষ্ক ৫ গন্তব্য
লেহ-লাদাখ
স্পিতি ভ্যালি
তাওয়াং
লাহাউল ভ্যালি
কিন্নর