ইউরোপের বড় বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে। জার্মানির মিউনিখ ও ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে যাত্রী কমেছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৪ ও ১১ শতাংশ। এর প্রধান এপ্রিল মাসে দীর্ঘ সময় ধরে চলা শ্রমিক ধর্মঘট। একই সময়ে লন্ডনের গ্যাটউইক ও হিথ্রো, তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং আরও কয়েকটি বড় বিমানবন্দরেও যাত্রীসংখ্যা কমেছে।
তবে সব বিমানবন্দরের চিত্র এক নয়। স্পেন, ইতালি, পোল্যান্ড, মাল্টা, স্লোভেনিয়া ও এস্তোনিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এবং ইউরোপের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মাঝারি ও ছোট বিমানবন্দরগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণের পরিবর্তে অনেক যাত্রী এখন ইউরোপের ভেতরে স্বল্প ও মধ্য দূরত্বের গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। ফলে আঞ্চলিক রুটনির্ভর বিমানবন্দরগুলো লাভবান হচ্ছে। তবে ছোট বিমানবন্দরগুলোর অনেকগুলো এখনও মহামারির আগের সময়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন শেনজেন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম (ইইএস) নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এই ডিজিটাল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর ফলে বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এসিআই ইউরোপের মহাপরিচালক অলিভিয়ার জানকোভেক সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনীয় নমনীয়তা না দেওয়া হলে আগামী মাসগুলোতে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
তবে নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও আশার খবর রয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো এখনো বড় ধরনের ফ্লাইট কমানোর পথে যায়নি এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও অনেকটা কমেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপের বিমান পরিবহন খাত আবারও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইউরোপের আকাশপথে যাত্রী প্রবাহের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।