ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে কয়েকদিন আগেই। তবে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে এখনো কমেনি ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী, কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ছে। দুপুরের তীব্র রোদে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বিকেলের পর থেকেই সৈকতজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
সৈকতে আসা পরিবার ও বন্ধুদের দলকে সমুদ্রস্নান, ঘোড়ায় চড়া, বিচ বাইক ভ্রমণ, বালুকাবেলায় ছবি তোলা এবং সাগরের শীতল বাতাস উপভোগ করতে দেখা যাচ্ছে। ঈদের প্রধান ভিড় কমে যাওয়ায় অনেকেই তুলনামূলক স্বস্তিতে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রেজাউল করিম বলেন, প্রচণ্ড গরম থাকলেও সমুদ্রের সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, “আবহাওয়া বেশ গরম। তবে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য আমাদের ভ্রমণকে সার্থক করেছে। ঈদের মূল ভিড় কমে যাওয়ায় পরিবারের সঙ্গে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানো যাচ্ছে।”
আরেক পর্যটক জানান, সাগরের বাতাস গরমের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে সৈকতে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি ছুটি শেষ হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। অনেকেই ঈদের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করে পরিবার নিয়ে আরও কয়েকদিন সময় কাটাচ্ছেন।
এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতেও। হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এখনো সন্তোষজনক ব্যবসা চলছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলমান মৌসুমে পর্যটকের এই উপস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী লাইফগার্ড সদস্যরা সমুদ্রে নামার সময় পর্যটকদের সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, লাল ও হলুদ পতাকার নির্দেশনা অনুসরণ করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং সমুদ্রস্নান আরও নিরাপদ হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ঈদ, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং বিভিন্ন সরকারি ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত এই পর্যটন নগরী দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্য।