পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি ও সাজেক ভ্যালির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এবং সাজেকের রিসোর্ট-কটেজগুলো। ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার বিকেলে রাঙামাটির পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। দর্শনার্থীদের অনেকেই সেখানে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ আবার সেতুর পাশের ঘাট থেকে ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণে বের হন।
ঝুলন্ত সেতুর পাশাপাশি পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো এলাকা, রাঙাদ্বীপ, আসামবস্তি ব্রিজ, আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক এবং কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজেও পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ফেনী থেকে ঘুরতে আসা খোরশেদ আলম, সোহেল রানা ও হাবিব জানান, বন্ধুদের সঙ্গে প্রথমবার রাঙামাটি ভ্রমণে এসেছেন তারা। আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝুলন্ত সেতুর ছবি দেখলেও এবার সরাসরি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তাদের ভাষায়, পাহাড় ও হ্রদের সমন্বয়ে রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অনন্য।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক খালেদ মাহমুদ বলেন, এর আগে বর্ষা মৌসুমে একবার রাঙামাটি এসেছিলেন তিনি। তখন কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বেশি ছিল। বর্তমানে পানি কিছুটা কম থাকলেও সৌন্দর্যে কোনো কমতি নেই। সারাদিন বোটে লেক ভ্রমণের পর ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
পর্যটন বোট ঘাট কাউন্টারের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রায় ৪০টি ট্যুরিস্ট বোট কাপ্তাই হ্রদে চলাচল করছে। ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে বোট ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে। দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বোট ভাড়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক ঝুলন্ত সেতু পরিদর্শন করেছেন। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০। গত দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া আগামী ১ জুন পর্যন্ত কমপ্লেক্সের হোটেল কক্ষের প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতেও বেড়েছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি। সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুর্পণ দেব বর্মণ জানান, ঈদের তৃতীয় দিনে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সাজেক ভ্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে পর্যটকের চাপ অনেক বেশি। বর্তমানে সাজেকে থাকা ১২৫টি রিসোর্ট ও কটেজের সবগুলোই শতভাগ বুকিং হয়েছে। ফলে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সাজেকের পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনুকূল আবহাওয়া, দীর্ঘ ছুটি এবং পাহাড়ি প্রকৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে এবার ঈদে রাঙামাটি ও সাজেকে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।