চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান খৈয়াছড়া ঝরনায় ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরও কমেনি পর্যটকদের আনাগোনা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসছেন ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটাতে এবং শহুরে ব্যস্ততা থেকে স্বস্তি খুঁজতেই পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই ঝরনা।
ঝরনার পথে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। দলবেঁধে তরুণ-তরুণী, বন্ধুদের আড্ডা, পারিবারিক ভ্রমণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গঠনশৈলীর দিক থেকে খৈয়াছড়া ঝরনা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ঝরনা হিসেবে পরিচিত। ঝরনাটিতে রয়েছে আটটি প্রধান ধাপ এবং আরও কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ধাপ। পাহাড়, পাথর ও সবুজ বনানীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জলপ্রপাত পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা ফখরুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতে চার বন্ধুকে নিয়ে এখানে এসেছি। ঝরনায় পানির পরিমাণ খুব বেশি না থাকলেও আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। তবে আগে টিকিটের মূল্য ২০ টাকা থাকলেও এখন ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।”
ফেনীর পরশুরাম থেকে আসা কলেজছাত্র মাসুদ রানা বলেন, “এটাই আমার প্রথম খৈয়াছড়া ভ্রমণ। এতদিন শুধু নাম শুনেছি। সরাসরি এসে জায়গাটির সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তবে ঝরনায় পৌঁছানোর পথ কিছুটা দুর্গম।”
পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মুরশিদুল আলম বলেন, “পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। শিশুদের জন্য যাতায়াতে কিছুটা কষ্ট হলেও পরিবেশ খুব সুন্দর। তবে বর্ষাকালের তুলনায় এবার পানির প্রবাহ অনেক কম।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পর্যটক সমাগমে সন্তুষ্ট। খৈয়াছড়া ঝরনা সড়কের পাশে দোকান পরিচালনা করা আবু তাহের বলেন, “রমজানের ঈদের পর দীর্ঘ সময় পর্যটক কম ছিল। কোরবানির ঈদের পরদিন থেকে আবার দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালো হচ্ছে।”
মিরসরাই-সীতাকুণ্ড এলাকার পাঁচটি ঝরনার ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এ আর এন্টারপ্রাইজের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন জানান, দীর্ঘ খরার কারণে কিছুদিন পর্যটক উপস্থিতি কম ছিল। তবে কোরবানির ঈদের পর থেকে আবার দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, “ঝরনার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে। টিকিট কাউন্টার থেকেও পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থে সবাইকে গাইড নিয়ে ঝরনায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
জনপ্রিয় প্রাকৃতিক গন্তব্য
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত খৈয়াছড়া ঝরনা দেশের বৃহত্তম বহুস্তরবিশিষ্ট ঝরনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে এর সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সে সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ভিড় করেন।
কীভাবে যাবেন
দেশের যেকোনো স্থান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে মিরসরাই পৌরসদর অতিক্রম করে বড়তাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নামতে হবে। সেখান থেকে খৈয়াছড়া ঝরনার প্রবেশপথে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়। পর্যটকরা চাইলে রিজার্ভ বা লোকাল উভয়ভাবেই যেতে পারবেন। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েও পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব।