সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চলগুলোকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে সীমান্তঘেঁষা ২৭ কিলোমিটার লিংক সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, জাফলংসহ সীমান্তের প্রায় ১০টি দর্শনীয় স্থানে এক দিনেই ভ্রমণ করা সম্ভব হবে। এতে পর্যটকদের সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমার পাশাপাশি সীমান্তভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বর্তমানে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার, চা বাগান এবং সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করতে গেলে অধিকাংশ পর্যটককে দুই বা তার বেশি দিনের পরিকল্পনা করতে হয়। কারণ এসব স্থানের মধ্যে সরাসরি সড়ক সংযোগ সীমিত।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান সীমান্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে পর্যটন খাতের বিকাশের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে বিছনাকান্দি হয়ে জাফলং পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার পথের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার অংশে উন্নয়নকাজ হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। বাকি অংশের দরপত্র আগামী সেপ্টেম্বরে আহ্বান করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি নতুন অংশ নির্মাণ, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং মোট পাঁচটি সেতু নির্মাণ করা হবে। তিনটি সেতু থাকবে দ্বিতীয় অংশে। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। আগামী বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এলজিইডি।
সড়কটি চালু হলে পর্যটকরা এক দিনেই সাদাপাথর, উৎমাছড়া, দমদমা ছড়া, বিছনাকান্দি, লক্ষ্মণছড়া, পান্থুমাই, খাসিয়াপল্লি, জাফলং, মায়াবী ঝর্ণা ও শ্রীপুরসহ একাধিক দর্শনীয় স্থান সহজে ঘুরে দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে সিলেট থেকে সাদাপাথর হয়ে জাফলং অথবা তামাবিল সড়ক দিয়ে জাফলং ঘুরে বিছনাকান্দি হয়ে সাদাপাথরে ফেরার বিকল্প ভ্রমণপথও তৈরি হবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে সীমান্ত এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌভ্রমণ, স্থানীয় গাইড সেবা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরাও সহজে তাদের পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। তবে পর্যটকদের পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, তথ্যকেন্দ্র ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলজিইডির সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান জানান, বর্তমানে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ১১০ কোটি টাকার কাজ চলছে। বাকি অংশ উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে সিলেটের সীমান্তবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলো একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।
প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সড়ক উন্নয়ন: ২৭ কিলোমিটার
মোট সম্ভাব্য ব্যয়: প্রায় ২০০ কোটি টাকা
নির্মাণ হবে: ৫টি সেতু
চলমান কাজ: প্রায় ১৫ কিলোমিটার
লক্ষ্য: আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ
উপকারভোগী: সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, জাফলংসহ সীমান্তের প্রায় ১০টি পর্যটনকেন্দ্র