ঈদুল আজহা সামনে রেখে আবারও প্রাণ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটন খাত। কয়েক সপ্তাহের পর্যটক খরার পর এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পাহাড়, নদী ও ঝরনার সৌন্দর্য বাড়ায় ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও পান্তুমাই বছরের বেশির ভাগ সময়ই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পাহাড়, পাথুরে নদী, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধনে দেশজুড়ে পরিচিত এসব পর্যটন এলাকা। তবে গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পর্যটক কমে যাওয়ায় অনেকটা নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে স্থানীয় পর্যটনশিল্প।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টি মৌসুম শুরু হলে সাধারণত জাফলং ও আশপাশের এলাকাগুলোতে পর্যটকের ভিড় বাড়ে। কিন্তু এবার প্রত্যাশিত পর্যটক না আসায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন হোটেল-মোটেল মালিক, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, নৌকা চালক, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলমান থাকায় ভ্রমণ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে।
জাফলং এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় এবার পর্যটক উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এমনকি ছুটির দিনেও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। এতে দোকানপাট, খাবারের হোটেল ও পর্যটকনির্ভর ব্যবসাগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে ঈদুল আজহাকে ঘিরে এখন পরিস্থিতি বদলের আশা করছেন সবাই। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ছুটিতে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুরা আবারও ভিড় করবেন গোয়াইনঘাটের পর্যটন এলাকাগুলোতে।
জাফলংয়ের পাশাপাশি দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, জল-পাথরের বিছানাখ্যাত বিছনাকান্দি, নৈসর্গিক পান্তুমাই গ্রাম ও জাফলংয়ের ঝরনাগুলো দেখতে প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে গোয়াইনঘাটের পাহাড়, নদী ও ঝরনাগুলো নতুন রূপ পেয়েছে। সবুজে মোড়ানো পাহাড় আর প্রবহমান ঝরনার সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাওয়ায় ঈদে পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ আবাসিক হোটেল ও মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হোসেন মিয়া বলেন, গেল ঈদের পর থেকেই জাফলং প্রায় পর্যটকশূন্য ছিল। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েন। এবারের ঈদে পর্যটক বাড়লে সেই ক্ষতি কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা দোকানগুলো নতুন পণ্য দিয়ে সাজিয়েছেন।
জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আহ্বায়ক ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যটকের খরা থাকায় পর্যটনশিল্পে জড়িতরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে ঈদে ভালো ব্যবসা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এজন্য হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।