কাজ, উন্নত জীবনযাপন এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের জন্য অন্য দেশে পাড়ি জমানো মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে প্রবাসীদের বসবাসের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে উপযোগী শহরগুলোর তালিকা।
এই গবেষণায় শুধু সুন্দর দৃশ্য বা কম করের বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক পরিবেশ এবং নতুন দেশে সহজে মানিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে ইউরোপের শহরগুলো।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৩০ কোটির বেশি মানুষ নিজেদের জন্মভূমির বাইরে বসবাস করছেন। ১৯৯০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
কোভিড মহামারির মধ্য দিয়ে কর্মক্ষেত্রে মানুষের শারীরিক উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা কমে আসার একটা প্রভাবও এতে কাজ করেছে।
আবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল সিটিজেন সলুশনস’ প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর’ এর তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই গবেষণার বরাতে ইউরো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গবেষণায় ছয় মহাদেশের ৩৫টি শহরকে নানা সূচকের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হয়।
সূচকগুলো হলো— জীবনযাত্রার ব্যয়, নিরাপত্তা, বায়ুর মান, স্বাস্থ্যসেবা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সহজতা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং ভিসা ও পাসপোর্ট সুবিধা।
প্রতিটি শহরকে ০ থেকে ১০০ স্কেলে নম্বর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদি বিদেশজীবনে এই দুটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে পর্তুগালের লিসবন। ১০০ নম্বরের মধ্যে শহরটি পেয়েছে ৮৮ দশমিক ৪৯। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম; আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বেলবোর্ন।
শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে পাঁচটি ইউরোপের। শীর্ষ বাকি সাত শহর হলো, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, স্পেনের বার্সেলোনা, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, জাপানের টোকিও, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিওল।
গবেষণায় বলা হয়েছে, লিসবন কোনো একক ক্ষেত্রে সেরা না হলেও সব সূচকেই ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। ভিয়েনা, আমস্টারডাম বা কোপেনহেগেনের তুলনায় এখানকার জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক কম। পাশাপাশি ইংরেজি ব্যবহারের সুবিধা, উন্নত বায়ুমান ও নিরাপত্তা শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
এছাড়া ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের সুযোগ থাকায় প্রবাসীদের জন্য লিসবনকে আদর্শ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আমস্টারডাম নিরাপত্তা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য উচ্চ নম্বর পেয়েছে। শহরটিতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহারও ইউরোপের অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি।
সাইকেল ও গণপরিবহননির্ভর জীবনযাপনের জন্য পরিচিত এই শহরে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি যাতায়াত হয়েছে হাঁটা, সাইকেল অথবা গণপরিবহনের মাধ্যমে। তবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক প্রবাসীর জন্য সেখানে বসবাস কঠিন করে তুলতে পারে।
শীর্ষ পাঁচে ইউরোপের বাইরের একমাত্র শহর মেলবোর্ন। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, স্থিতিশীল প্রশাসন ও উন্নত নগরব্যবস্থার কারণে শহরটি প্রবাসীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
বিশেষ করে ইংরেজিভাষী দেশগুলো থেকে আসা মানুষের কাছে মেলবোর্ন একটি পছন্দের গন্তব্য। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ইউরোপের কিছু শহরের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।প্রবাসীদের বসবাসের জন্য লিসবন ‘সেরা’, শীর্ষ দশে এশিয়ার ৩
কাজ, উন্নত জীবনযাপন এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের জন্য অন্য দেশে পাড়ি জমানো মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে প্রবাসীদের বসবাসের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে উপযোগী শহরগুলোর তালিকা।
এই গবেষণায় শুধু সুন্দর দৃশ্য বা কম করের বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক পরিবেশ এবং নতুন দেশে সহজে মানিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে ইউরোপের শহরগুলো।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৩০ কোটির বেশি মানুষ নিজেদের জন্মভূমির বাইরে বসবাস করছেন। ১৯৯০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
কোভিড মহামারির মধ্য দিয়ে কর্মক্ষেত্রে মানুষের শারীরিক উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা কমে আসার একটা প্রভাবও এতে কাজ করেছে।
আবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল সিটিজেন সলুশনস’ প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর’ এর তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই গবেষণার বরাতে ইউরো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গবেষণায় ছয় মহাদেশের ৩৫টি শহরকে নানা সূচকের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হয়।
সূচকগুলো হলো— জীবনযাত্রার ব্যয়, নিরাপত্তা, বায়ুর মান, স্বাস্থ্যসেবা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সহজতা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং ভিসা ও পাসপোর্ট সুবিধা।
প্রতিটি শহরকে ০ থেকে ১০০ স্কেলে নম্বর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদি বিদেশজীবনে এই দুটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে পর্তুগালের লিসবন। ১০০ নম্বরের মধ্যে শহরটি পেয়েছে ৮৮ দশমিক ৪৯। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম; আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বেলবোর্ন।
শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে পাঁচটি ইউরোপের। শীর্ষ বাকি সাত শহর হলো, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, স্পেনের বার্সেলোনা, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, জাপানের টোকিও, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিওল।
গবেষণায় বলা হয়েছে, লিসবন কোনো একক ক্ষেত্রে সেরা না হলেও সব সূচকেই ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। ভিয়েনা, আমস্টারডাম বা কোপেনহেগেনের তুলনায় এখানকার জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক কম। পাশাপাশি ইংরেজি ব্যবহারের সুবিধা, উন্নত বায়ুমান ও নিরাপত্তা শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
এছাড়া ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের সুযোগ থাকায় প্রবাসীদের জন্য লিসবনকে আদর্শ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আমস্টারডাম নিরাপত্তা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য উচ্চ নম্বর পেয়েছে। শহরটিতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহারও ইউরোপের অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি।
সাইকেল ও গণপরিবহননির্ভর জীবনযাপনের জন্য পরিচিত এই শহরে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি যাতায়াত হয়েছে হাঁটা, সাইকেল অথবা গণপরিবহনের মাধ্যমে। তবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক প্রবাসীর জন্য সেখানে বসবাস কঠিন করে তুলতে পারে।
শীর্ষ পাঁচে ইউরোপের বাইরের একমাত্র শহর মেলবোর্ন। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, স্থিতিশীল প্রশাসন ও উন্নত নগরব্যবস্থার কারণে শহরটি প্রবাসীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
বিশেষ করে ইংরেজিভাষী দেশগুলো থেকে আসা মানুষের কাছে মেলবোর্ন একটি পছন্দের গন্তব্য। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ইউরোপের কিছু শহরের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।