কক্সবাজারে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রটিতে কমে গেছে পর্যটকের উপস্থিতি। সৈকতজুড়ে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক নীরবতা, আর এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের কলাতলী সৈকত, সুগন্ধা সৈকত ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ সময়ের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক কম। প্রচণ্ড গরমের কারণে অধিকাংশ মানুষ দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলছেন। ফলে সৈকতের বিভিন্ন অংশ তুলনামূলক ফাঁকা দেখা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দুপুরের পর সৈকত এলাকায় মানুষের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটননির্ভর ছোট ব্যবসাগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, চলমান তাপপ্রবাহ আরও অন্তত তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে চার দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, তীব্র গরমের মধ্যেও সমুদ্রস্নানে নামছেন অনেকে। কক্সবাজার সৈকতের জ্যেষ্ঠ লাইফগার্ড মোহাম্মদ ওসমান বলেন, বর্তমানে সমুদ্রস্নানের পরিবেশ নিরাপদ রয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে লাল ও হলুদ সতর্কতামূলক পতাকা টানানো হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাইফগার্ডরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

চলমান দাবদাহে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক উভয়ের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসকেরা এ সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।