গরমের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই খুঁজছেন পাহাড়, হ্রদ আর শীতল আবহাওয়ার কোনো গন্তব্য। এমন সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ দেশ নেপাল হতে পারে আদর্শ পছন্দ। মে মাসে দেশটির পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে থাকে মনোরম আবহাওয়া, পরিষ্কার আকাশ এবং ট্রেকিংয়ের উপযোগী পরিবেশ। তাই প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার কিংবা শান্ত নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে নেপালের কয়েকটি গন্তব্য হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতার নাম।
হিমালয়ের দেশ নেপালে রয়েছে বরফঢাকা পর্বত, শান্ত হ্রদ, তিব্বতি সংস্কৃতি, চা-বাগান এবং বৈচিত্র্যময় ট্রেকিং রুট। মে মাসে পর্যটকদের ভিড়ও তুলনামূলক বেশি থাকে। কারণ, এ সময়টিকে নেপালে বসন্ত ও গ্রীষ্মের মধ্যবর্তী ভ্রমণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।
জেনে নিন মে মাসে ঘুরে দেখার মতো নেপালের সেরা ৭ গন্তব্য সম্পর্কে।
পোখারা
নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর পোখারা। হ্রদ, পাহাড় আর অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের জন্য শহরটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অন্নপূর্ণা অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের প্রবেশদ্বার হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
ফেওয়া লেকে বোটিং, প্যারাগ্লাইডিং, আলট্রালাইট ফ্লাইট এবং পাহাড়ি সূর্যোদয় উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করেন পর্যটকেরা। এখান থেকে মাছাপুচারে ও অন্নপূর্ণা পর্বতমালার অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। শান্ত পরিবেশের কারণে পরিবার কিংবা দম্পতিদের কাছেও পোখারা বেশ জনপ্রিয়।
জোমসম
মুস্তাং অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত জোমসম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। পাহাড়ি গিরিখাত, শুষ্ক উপত্যকা এবং তিব্বতি সংস্কৃতির মিশেলে জায়গাটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
জোমসমের আশপাশে রয়েছে কাগবেনি, ধুম্বা লেক এবং আপেলের জন্য বিখ্যাত মারফা গ্রাম। পোখারা থেকে মাত্র ২৫ মিনিটের ফ্লাইটে পৌঁছানো যায় সেখানে। ট্রেকিং করেও যাওয়া সম্ভব, তবে সে ক্ষেত্রে সময় বেশি প্রয়োজন হয়।
ইলাম
পূর্ব নেপালের সবুজে ঘেরা ইলামকে বলা হয় দেশটির চায়ের রাজধানী। সারি সারি চা-বাগান, কুয়াশা ঢাকা পাহাড় আর শান্ত পরিবেশ ইলামকে আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছে।
কন্যাম টি গার্ডেন, আন্ত ডান্ডা এবং মাই পোখরি এখানকার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। স্থানীয় লিম্বু ও রাই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার সুযোগও রয়েছে এখানে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভারতের শিলিগুড়ি সীমান্ত হয়ে ইলাম যাওয়া তুলনামূলক সহজ। এছাড়া কাঠমান্ডু থেকে ভদ্রপুর বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথেও পৌঁছানো যায়।
লাংটাং ভ্যালি
ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে লাংটাং ভ্যালি এক স্বপ্নের গন্তব্য। হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই উপত্যকায় রয়েছে পাহাড়, বনাঞ্চল, হিমবাহ এবং তিব্বতি সংস্কৃতির ছোঁয়া।
ট্রেকিং পথে দেখা মিলতে পারে লাল পান্ডা, ইয়াকের চারণভূমি এবং রডোডেনড্রন বন। কিয়ানজিন গোম্পা, সেরকো রি ভিউ পয়েন্ট, লাংটাং লিরুং হিমবাহ ও লাংটাং জাতীয় উদ্যান এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
কাঠমান্ডু থেকে সড়কপথে সায়াব্রুবেসি পৌঁছে সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু করতে হয়।
সোলুখুম্বু
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত নেপালের সোলুখুম্বু অঞ্চলে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেক, গোকিও লেকস ট্রেক এবং থ্রি পাসেস ট্রেকের জন্য অঞ্চলটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
শেরপা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ এবং তুষারঢাকা পাহাড় সোলুখুম্বুকে করেছে অনন্য। তেংবোচে মঠ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
কাঠমান্ডু থেকে লুকলার তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দরে পৌঁছে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হয়।
কাগবেনি
অন্নপূর্ণা অঞ্চলের প্রাচীন তিব্বতি ধাঁচের গ্রাম কাগবেনি। কালি গন্ডকি ও ঝং নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত এই গ্রামটি মুস্তাং যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিরতি।
পুরোনো মঠ, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এবং মরুভূমির মতো পাহাড়ি পরিবেশ কাগবেনিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। কাছেই রয়েছে বিখ্যাত মুক্তিনাথ মন্দির।
কাঠমান্ডু থেকে প্রথমে পোখারা, এরপর জোমসম হয়ে সড়কপথে কাগবেনি পৌঁছানো যায়।
মাকালু বরুণ ন্যাশনাল পার্ক
প্রকৃতি ও নিরিবিলি ট্রেকিং পছন্দ করেন যারা, তাদের জন্য মাকালু বরুণ ন্যাশনাল পার্ক হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। নেপালের অন্যতম বৈচিত্র্যময় এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বত মাকালু।
এখানে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, গভীর গিরিখাত এবং বিরল বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। তুষার চিতা ও লাল পান্ডার মতো প্রাণীও রয়েছে এই অঞ্চলে। পাশাপাশি শেরপা, রাই ও লিম্বু সম্প্রদায়ের জীবনধারাও কাছ থেকে দেখা যায়।