বিশ্ব পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপের জনপ্রিয়তা আরও একবার স্পষ্ট হলো নতুন পরিসংখ্যানে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ নিয়ে প্রতিবাদ বাড়লেও স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স কিংবা গ্রিসের প্রতি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহ কমেনি। ২০২৫ সালে ইউরোপজুড়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের রাতযাপনের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫০ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি রাতযাপন হয়েছে স্পেনে।
ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোস্ট্যাট এবং যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের রাতযাপনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৩ কোটি। ইউরোপ তো বটেই, পুরো বিশ্বেই এটি সর্বোচ্চ। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইতালিতে একই সময়ে রাতযাপন হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি ৪৭ লাখ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের রাতযাপন ছাড়িয়েছে ১৫ কোটি ৪৭ লাখ। খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ফ্রান্সে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৭ লাখ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলেও পর্যটনে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এখনো শক্তিশালী। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের রাতযাপনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৯৮ লাখ। ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালিকার পরের দেশগুলো হলো গ্রিস, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্র উপকূল, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং উন্নত পর্যটন অবকাঠামো এখনো বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীদের প্রধান আকর্ষণ।
বিশেষ করে স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও ক্রোয়েশিয়া গ্রীষ্মকালীন সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। যদিও অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ নিয়ে এসব দেশে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, তবুও পর্যটকদের আগ্রহে তার প্রভাব পড়েনি।
ফ্রান্সেও শুধু রাজধানী প্যারিস নয়, ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা, প্রোভঁস ও আল্পস অঞ্চলেও সারা বছর ভিড় থাকে পর্যটকদের। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া শীতকালীন পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, বড় দেশ হলেই যে বেশি পর্যটক পাবে এমন নয়। তুলনামূলক ছোট দেশ ক্রোয়েশিয়ায়ও ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের রাতযাপন ৮ কোটি ৫৬ লাখ ছাড়িয়েছে। মূলত অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের সৌন্দর্য দেশটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাত প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে এ খাতে কর্মসংস্থান দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রতি ৯টি চাকরির মধ্যে একটি হবে পর্যটন ও ভ্রমণ খাতসংশ্লিষ্ট।
ইউরোপের সবচেয়ে বেশি পর্যটক রাতযাপনের শীর্ষ ১০ দেশ
১. স্পেন — ৩২ কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮ রাতযাপন
২. ইতালি — ২৬ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার ৪১৪
৩. তুরস্ক — ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯
৪. ফ্রান্স — ১৫ কোটি ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮২৯
৫. যুক্তরাজ্য — ১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার
৬. গ্রিস — ১৩ কোটি ৮৫ লাখ ১ হাজার ৮০৯
৭. অস্ট্রিয়া — ৯ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪
৮. ক্রোয়েশিয়া — ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৪ হাজার ৫০৫
৯. জার্মানি — ৮ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৬৬৬
১০. নেদারল্যান্ডস — ৬ কোটি ৪৩ লাখ ১১ হাজার ৫৫