নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্য সংরক্ষণকে ভিত্তি করে পর্যটন অর্থনীতিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণকারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, ঐতিহাসিক স্থাপনার যত্নশীল রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিক প্রচারের কারণে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পর্যটন অর্থনীতির দেশ হওয়ার পথে রয়েছে দেশটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটনকেই বড় শক্তিতে পরিণত করেছে বেইজিং। ২০২৫ সালে শুধু অভ্যন্তরীণ পর্যটন থেকেই চীনের আয় হয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। মার্কিন ডলারে এর পরিমাণ প্রায় ৮৭০ বিলিয়ন। একই সময়ে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে এসেছে আরও ১২০ বিলিয়ন ডলার।

চীনের মোট জিডিপিতে পর্যটন খাতের সরাসরি অবদান বর্তমানে প্রায় ৪ দশমিক ৩৫ থেকে ৫ শতাংশ। তবে হোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাত যুক্ত করলে দেশের জিডিপির ১১ শতাংশেরও বেশি আসে পর্যটন খাত থেকে।

চীনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক বেইজিংয়ের ৬০০ বছরের পুরনো টেম্পল অফ হ্যাভেন এখন দেশটির পর্যটন আকর্ষণের বড় কেন্দ্র। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত এই স্থাপনাটি একসময় রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভালো ফসলের আশায় এখানে প্রার্থনা করতেন সম্রাট ও সাধারণ মানুষ।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছে মন্দিরটির নকশা, কারুকাজ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। চীন সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-ও টেম্পল অফ হ্যাভেন পরিদর্শন করেন এবং এর স্থাপত্যশৈলীর প্রশংসা করেন।

ইউরোপ থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, এই মন্দির ভ্রমণ তাদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। স্থাপনাটির নকশা ও শিল্পরীতি ইউরোপীয় ঐতিহ্য থেকে অনেকটাই আলাদা।

আরেক পর্যটক জানান, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও স্থাপত্য তার কাছে খুবই আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। তিনি ঐতিহাসিক এই স্থানে অনেক ছবি তুলেছেন।

চীনে প্রথমবার ভ্রমণে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, দেশটির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাবার তাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা তার কাছে প্রশংসনীয় মনে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সাফল্যের মূল কারণ হলো নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে উৎসাহ দিতে যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও পর্যটনসেবায় বড় বিনিয়োগ করেছে দেশটি।