বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। বিশেষ করে বিকেলের পর সৈকতজুড়ে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। বঙ্গোপসাগরের বুকে লাল-কমলা সূর্যাস্ত আর ঢেউয়ের গর্জনে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটান দেশ-বিদেশের ভ্রমণপ্রেমীরা।

সাম্প্রতিক এক বিকেলে সৈকতে ঘুরতে আসেন মোহাম্মদ নুরউদ্দিন সরদার ও তার স্ত্রী সামিহা মাহবুব। প্রকৃতির কাছাকাছি কাটানো সময়কে তারা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।

তাদের ভাষ্য, কক্সবাজারের সূর্যাস্তের সৌন্দর্য অন্য যেকোনো স্থান থেকে আলাদা। সমুদ্রের বিশালতা, আকাশের রঙের পরিবর্তন এবং শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের সহজেই আকৃষ্ট করে।

মোহাম্মদ নুরউদ্দিন সরদার বলেন, কক্সবাজারে পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ জরুরি।

তিনি বলেন, সমুদ্র, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও কার্যকর প্রচারণায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা, আন্তর্জাতিক পর্যটন ক্যাম্পেইন, ভ্রমণবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র এবং বিদেশি পর্যটকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বিশ্বপর্যায়ে কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারে।

বিশ্বের তরুণ ভ্রমণপ্রেমীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরিবিলি সমুদ্রতীর ও মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে চান, তাদের জীবনে অন্তত একবার কক্সবাজারে আসা উচিত। এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি যে কাউকে মুগ্ধ করবে।