বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বর্তমানে জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ হলেও তা বাড়িয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত শেরাটন ঢাকা হোটেলে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান মাত্র ৩ শতাংশ। তবে সরকার অদূর ভবিষ্যতে এই হার ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এজন্য পর্যটন খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার পর্যটনকে শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও খাতটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে উন্নয়ন ও প্রচারের আওতায় এনে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পরিকল্পনায় ইকো-ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ধর্মীয় পর্যটন, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের নীতিগত উন্নয়নে টোয়াবের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
বাংলাদেশে পর্যটন খাত দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে বিবেচিত হলেও অবকাঠামো সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক প্রচারের ঘাটতি এবং বিনিয়োগ সংকটের কারণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় খাতটিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।