বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট যেন নেপালি শেরপা কামি রিতার কাছে আরেকটি পরিচিত পথ। একের পর এক রেকর্ড গড়তে থাকা এই অভিজ্ঞ পর্বতারোহী এবার ৩২তম বারের মতো এভারেস্ট চূড়ায় উঠে আবারও ইতিহাস লিখেছেন। বিশ্বের আর কোনো পর্বতারোহী এতবার এভারেস্ট জয় করতে পারেননি।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে পর্বতারোহীদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছান ৫৬ বছর বয়সী কামি রিতা। তিনি ফরটিন পিকস এক্সপেডিশন কোম্পানির হয়ে অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
এর আগে ২০২৫ সালে ৩১তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করেছিলেন তিনি। এবার সেই রেকর্ড নিজেই আরও একধাপ বাড়ালেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বের অন্য কোনো পর্বতারোহী তার এই কীর্তির ধারেকাছেও নেই।
কামি রিতার এই অর্জনকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে নেপালের পর্যটন বিভাগ। এক বিবৃতিতে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে দেশটির পাহাড়ি পর্যটন খাতে তার অবদানের প্রশংসা করা হয়েছে।
একই বিবৃতিতে নারী শেরপা লাকপাকেও অভিনন্দন জানানো হয়। ৫২ বছর বয়সী এই শেরপা নারী রেকর্ড ১১তম বারের মতো এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছেন। বিশ্বের আর কোনো নারী এতবার এভারেস্ট জয় করতে পারেননি। তবে তার সর্বশেষ অভিযানের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নেপালের সোলুখুমবু জেলার থামে গ্রামে জন্ম কামি রিতার। একই গ্রামে জন্ম হয়েছিল কিংবদন্তি শেরপা তেনজিং নরগেরও। ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমুন্ড হিলারির সঙ্গে প্রথমবার এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়েছিলেন নরগে।
কামি রিতা প্রথম এভারেস্টে ওঠেন ১৯৯৪ সালে। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই অন্তত একবার এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছেছেন তিনি। শুধু ২০১৪, ২০১৫ ও ২০২০ সালে অভিযান বন্ধ থাকায় ওই বছরগুলোতে আরোহন হয়নি। কখনো কখনো এক মৌসুমেই দুইবার এভারেস্ট জয় করার নজিরও রয়েছে তার।
এভারেস্টে সবচেয়ে বেশি আরোহনের তালিকায় শেরপাদের বাইরে শীর্ষে আছেন ব্রিটিশ গাইড কেনটন কুল। তিনি ১৯ বার এভারেস্ট জয় করেছেন। মার্কিন পর্বতারোহী ডেভ হান ও গ্যারেট ম্যাডিসন ১৫ বার করে শৃঙ্গে উঠেছেন। এবারও তারা নিজেদের রেকর্ড বাড়ানোর অভিযানে রয়েছেন।
১৯৫৩ সালে প্রথম এভারেস্ট জয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি মানুষ বিশ্বের সর্বোচ্চ এই পর্বতচূড়ায় পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই একাধিকবার সফল হয়েছেন।
এভারেস্ট ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটন ও অভিযাত্রী অর্থনীতি নেপালের সোলুখুমবু অঞ্চলের বহু শেরপা পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। বিদেশি পর্বতারোহীদের গাইড হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা।
চলতি মার্চ থেকে মে মৌসুমে এভারেস্ট অভিযানের জন্য ৪৯২টি পারমিট দিয়েছে নেপাল সরকার। তবে বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পরিস্থিতির কারণে এ মৌসুমেই তিন নেপালি পর্বতারোহীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।