বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং সমুদ্রভিত্তিক ওয়াটার স্পোর্টস সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা।

তাদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত বৈশ্বিক প্রচার এবং আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে কক্সবাজার এখনো আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে আসা পর্যটক তাসনিয়া জামান বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশের রয়েছে, এটি অনেক বিদেশিই জানেন না। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে কার্যকর প্রচার ও পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “সঠিকভাবে প্রচার না করলে বিদেশি পর্যটকরা কীভাবে জানবেন যে বাংলাদেশের কক্সবাজারে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত রয়েছে?”

তাসনিয়া জামান মনে করেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সমুদ্রভিত্তিক ওয়াটার স্পোর্টস সম্প্রসারণ করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, সফরের প্রথম দিন পরিবার নিয়ে সমুদ্রস্নান, সূর্যাস্ত উপভোগ এবং সৈকতসংলগ্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন তারা। পরে কেনাকাটা শেষে হোটেলে ফিরে যান।

দ্বিতীয় দিনে তারা মেরিন ড্রাইভ ও টেকনাফ ভ্রমণ করেন। পাহাড়, সাগর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয় তাকে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়, কক্সবাজার শুধু সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক নয়, বরং এটি এক বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অঞ্চল, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের সহজেই আকৃষ্ট করতে সক্ষম।

তৃতীয় দিনে ঢাকায় ফেরার আগে সকালে আবারও সৈকতে সময় কাটান তারা। এ সময় প্যারাসেইলিংসহ বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টসে অংশ নেন।

প্যারাসেইলিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তাসনিয়া জামান বলেন, “সমুদ্রকে ভিন্নভাবে দেখার ইচ্ছা অনেক দিনের ছিল। অভিজ্ঞতাটি সত্যিই স্মরণীয়। কক্সবাজারে এ ধরনের ওয়াটার স্পোর্টস আরও বাড়ানো উচিত।”