কক্সবাজারের পর্যটন জোনে একটি রেস্টুরেন্টে বারবিকিউ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত অর্ধশত পর্যটক। বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০ থেকে ৩৫ জন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত ‘আল-গণি’ রেস্টুরেন্টে খাবার গ্রহণ করেন রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষা সফরে আসা একদল পর্যটক। তাদের দাবি, বারবিকিউ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে শনিবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় ‘আল-গণি’ রেস্টুরেন্টের সুগন্ধা পয়েন্ট শাখাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শুভ্র দাশ জানান, রেস্টুরেন্টটির রান্নাঘর ও খাবার প্রস্তুতের স্থান অস্বাস্থ্যকর পাওয়া গেছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানবী জান্নাত বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে পর্যটকরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে শনিবার দুপুরের দিকে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভোরের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, কলেজের ১৩০ সদস্যের একটি দল শিক্ষা সফরে কক্সবাজারে যায়। শুক্রবার রাতে তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জন আল-গণি রেস্টুরেন্টে বারবিকিউ খান। খাবারের কিছু সময় পর থেকেই অনেকে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।
চিকিৎসা নেওয়া পর্যটকদের মধ্যে ছিলেন মাসুম বিল্লাহ, আনোয়ার, সাবাব উল্লাহ, জাহির, আমিনুল ইসলাম, মাসুম উল্লাহ, আজহারুল আলী, গোলাম মোর্শেদ, মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মোমেন, মশিউর রহমান, কামরুজ্জামান, গীতা বালা ধর, আয়ান, আবু বকর ও আব্দুল মঈনসহ আরও অনেকে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন পর্যটক অভিযোগ করেন, কক্সবাজারের পর্যটন এলাকাগুলোর অনেক রেস্টুরেন্টে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। পর্যটকদের নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-গণি রেস্টুরেন্টের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মাসরুর আলম। তিনি দাবি করেন, তাদের রেস্টুরেন্টের খাবার নয়, বরং সৈকত এলাকায় অন্য কোনো খাবার খেয়ে পর্যটকরা অসুস্থ হয়েছেন।
এদিকে একইদিন কক্সবাজারের হোটেল সি প্যালেসের একটি রেস্টুরেন্টেও অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।