ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মুখে পড়ে ভারতের দিল্লিগামী বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইট। ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে টার্মিনালের দিকে যাওয়ার সময় রানওয়ের পাশের ঘাসে শেয়াল দেখতে পেয়ে উড়োজাহাজ থামিয়ে দেন পাইলট। পরে কন্ট্রোল টাওয়ারের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও যাত্রা শুরু করে বিমানটি।

ভারতের নয়াদিল্লি থেকে আসা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বুধবার রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে এমন বিরল ঘটনার মুখোমুখি হয়।

বিমানবন্দরের ট্যাক্সিওয়ে থেকে টার্মিনালের দিকে যাওয়ার সময় উড়োজাহাজের ডান পাশে ঘাসের মধ্যে একটি শেয়াল দেখতে পান পাইলট। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিমান থামিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরে বিমানবন্দরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলেও প্রথমে কোনো শেয়াল খুঁজে পাননি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উড়োজাহাজটি আবার ট্যাক্সি শুরু করে। পুরো ঘটনাটি একজন প্লেন স্পটারের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

রাতে ‘রয়েল বেঙ্গল এভিয়েশন’ নামের একটি ফেসবুক পেইজে ভিডিওটি প্রকাশ করা হলে তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি বুধবারের এবং পুরো সময়জুড়ে ফ্লাইটটি প্রায় এক মিনিটের মতো আটকে ছিল।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় বন্যপ্রাণীর বিচরণ নতুন নয়। তবে এ ঘটনায় তার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবেদন পৌঁছায়নি।

ভিডিওতে কন্ট্রোল টাওয়ার ও ইন্ডিগোর ককপিটের কথোপকথনও শোনা যায়। সেখানে পাইলট জানান, উড়োজাহাজের ডান পাশে প্রায় ৩০ ফুট দূরে ঘাসের মধ্যে একটি শেয়াল রয়েছে। প্রাণীটিকে সরানো না পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন।

জবাবে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় লোক পাঠানো হয়েছে এবং ফ্লাইটকে অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়।

কিছুক্ষণ পর ককপিট থেকে আরও জানানো হয়, আরেকটি শেয়াল বাম দিক থেকে ডান দিকে চলে গেছে এবং তখন দুটি শেয়াল উড়োজাহাজের প্রায় ১০০ ফুট সামনে অবস্থান করছিল।

এরপর একটি কালো পিকআপ ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সেখানে থাকা কর্মীরা পরে জানান, তারা কেবল একটি সবুজ রঙের পলিথিন পেয়েছেন। শেয়ালের উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়ায় ফ্লাইটটিকে আবারও ট্যাক্সি শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়।