পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর সমুদ্রসৈকতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সৈকত এলাকায় লাইফগার্ড সেবা সম্প্রসারণ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য বৃদ্ধি এবং স্থায়ী নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ পরিকল্পনার কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। সভায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচালিত ‘সি-সেইফ’ লাইফগার্ড সেবা কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জীবনরক্ষায় বিদ্যমান নীতিমালার সংশোধন জরুরি। পাশাপাশি কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাড়ানো হবে লাইফগার্ড কর্মীর সংখ্যাও।
তিনি জানান, আপাতত করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ দিয়ে লাইফগার্ড সেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ খাতে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন-এর চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আঘাত প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন-এর প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের আর্থিক সহায়তায় আঘাত প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে সমুদ্রের স্রোত, জোয়ার ও অসতর্কতার কারণে নানা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এ কারণে সৈকত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।