গরমের দাপটের মাঝেই হঠাৎ বৃষ্টি। আবার কোথাও টানা কয়েক দিনের বর্ষণ। এমন অস্থির আবহাওয়ায় ভ্রমণে বের হলে শুধু গন্তব্য ঠিক করলেই হয় না, প্রয়োজন বাড়তি প্রস্তুতিরও। সামান্য অসতর্কতায় ভিজে যেতে পারে কাপড়, নষ্ট হতে পারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, এমনকি শারীরিক অস্বস্তিও বাড়তে পারে। তাই এই সময়ের ভ্রমণে ব্যাগ গোছানোর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আগে থেকেই মাথায় রাখা জরুরি।

বাড়তি পোশাক রাখুন

ভ্রমণে বের হওয়ার সময় প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি কাপড় সঙ্গে রাখা ভালো। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে কাপড় ভিজে যাওয়া বা শুকাতে দেরি হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। তাই অন্তত এক সেট অতিরিক্ত পোশাক ব্যাগে রাখুন। সঙ্গে একটি গামছা বা হালকা কাপড় রাখলেও কাজে দেবে।

ছাতা ও রেইনকোট রাখুন হাতের কাছে

এই সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামা খুবই সাধারণ ঘটনা। তাই ব্যাগে ছোট ভাঁজ করা ছাতা কিংবা হালকা রেইনকোট রাখুন। দীর্ঘ ভ্রমণ বা বাইক ট্রিপে রেইনকোট বেশি সুবিধা দিতে পারে। এতে বৃষ্টির মধ্যে চলাচলও সহজ হয়।

পানির বোতল নিতে ভুলবেন না

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ভ্রমণে থাকলে ঘামের কারণে ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখা জরুরি। বড় পানির বোতল বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বোতল ব্যবহার করলে বারবার পানি ভরেও নেওয়া যায়।

ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ ব্যবহার করুন

ভ্রমণের ব্যাগ ওয়াটারপ্রুফ হলে বৃষ্টির সময় বাড়তি নিরাপত্তা পাওয়া যায়। এতে মোবাইল, চার্জার, কাপড় বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। যদি পুরো ব্যাগ ওয়াটারপ্রুফ না হয়, তাহলে অন্তত ভেতরে প্লাস্টিক পাউচ বা ড্রাই ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

ছোট তোয়ালে রাখুন সহজে বের করার জায়গায়

হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত হাত, মুখ বা মাথা মুছে নেওয়ার জন্য ছোট তোয়ালে খুবই দরকারি। এটি ব্যাগের এমন জায়গায় রাখুন, যেন সহজেই বের করা যায়। দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ব্যবহার করলে আরও সুবিধা হবে।

ইলেকট্রনিকস সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা

বর্ষাকালে ভ্রমণে মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক বা ক্যামেরা ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এসব ডিভাইস আলাদা ওয়াটারপ্রুফ পাউচে রাখুন। প্রয়োজন হলে জিপলক ব্যাগও ব্যবহার করা যেতে পারে।

হালকা ও আরামদায়ক জুতা বেছে নিন

বৃষ্টির সময় ভারী জুতা ভিজে গেলে চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত শুকায় এমন স্যান্ডেল বা হালকা জুতা ব্যবহার করা ভালো। এতে দীর্ঘ সময় হাঁটলেও অস্বস্তি কম হবে।