বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টে খাদে পড়ে এক শেরপা গাইডের মৃত্যু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এভারেস্টে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। বৈশ্বিক ভ্রমণ সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব থাকলেও পর্বতারোহীদের আগ্রহ কমছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, নেপালের অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা সপ্তাহান্তের মধ্যেই চূড়ায় ওঠার পথে দড়ি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এরপর শুরু হবে মূল আরোহন।
নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা হিমাল গৌতম বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ভ্রমণ ও পর্যটনে প্রভাব ফেললেও এভারেস্টের প্রতি পর্বতারোহীদের আকর্ষণ কমেনি। বরং আগ্রহ বাড়ছে।”
নেপালে ৪০০টির বেশি হিমালয় পর্বতচূড়ায় আরোহণের সুযোগ থাকলেও সবচেয়ে জনপ্রিয়গুলোর একটি এভারেস্ট, যার উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার। চলতি মৌসুমে এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত আরোহনের জন্য ৪৯২টি অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। প্রতিটি অনুমতিপত্রের মূল্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৭৮।
সবশেষ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ বছর বয়সী ফুরা গ্যালজেন শেরপা। নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা নিশা থাপা রাওয়াত জানান, এভারেস্টের ক্যাম্প-৩ এর কাছে প্রায় ৭ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় বরফের ওপর পিছলে খাদে পড়ে যান তিনি।
এর আগে খুম্বু তুষারপাতে অভিযোজন অনুশীলনের সময় মারা যান ৩৫ বছর বয়সী নেপালি পর্বতারোহী বিজয় ঘিমিরে বিশ্বকর্মা। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে মূল শিবিরের যাওয়ার পথে প্রাণ হারান ৫১ বছর বয়সী লাকপা ডেন্ডি শেরপা।
গত সপ্তাহে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট মাকালুতে মারা যান ৫৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জোহানেসেন শেলি। একই সময়ে কাছের মাকালু-২ শৃঙ্গে প্রাণ হারান চেক প্রজাতন্ত্রের পর্বতারোহী ডেভিড রনবিনেক।
এর আগে এপ্রিল মাসে বিশাল বরফখণ্ড ধসে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার পথ প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল। এতে মূল শিবিরে আটকা পড়েন শত শত পর্বতারোহী।