চীনা নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ব্রাজিল। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এ নীতির ফলে স্বল্পমেয়াদি সফরে চীনা পর্যটকরা এখন ভিসা ছাড়াই ব্রাজিলে প্রবেশ করতে পারবেন। নতুন এই উদ্যোগকে দুই দেশের পর্যটন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, চীনা নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত ব্রাজিলে অবস্থান করতে পারবেন। এরই মধ্যে সাংহাই পুডং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে প্রথম ভিসামুক্ত যাত্রীদের একটি দল ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ফ্লাইটটি সোমবার রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে সাংহাই থেকে ছেড়ে কাতারের দোহায় যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে সাও পাওলো পৌঁছায়।

ভ্রমণবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ট্রিপ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং থেকে ব্রাসিলিয়া, রিও ডি জেনেইরো, সাও পাওলো ও ভিটোরিয়ার মতো শহরে সংযোগ ফ্লাইট পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব যাত্রায় অন্তত ২৬ ঘণ্টা সময় লাগছে।

ভিসামুক্ত নীতি কার্যকরের পর থেকেই চীনের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি ব্রাজিলকেন্দ্রিক নতুন ট্যুর প্যাকেজ ঘোষণা শুরু করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ প্যাকেজে ব্রাজিলকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

চীনের গুয়াংজুভিত্তিক জিজেডএল ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল সার্ভিস ২২ দিনের একটি গ্রুপ ট্যুর চালু করেছে, যেখানে ব্রাজিলের পাশাপাশি পেরু, আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ে ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্যাকেজটির মূল্য শুরু হয়েছে ৭৬ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ টাকার বেশি।

এই সফরের আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ইগুয়াজু জলপ্রপাত, মাচু পিচু এবং মোরেনো হিমবাহ।

জিজেডএল ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল সার্ভিসের মুখপাত্র গুয়ান জিয়ান বলেন, দক্ষিণ আমেরিকাভিত্তিক ভ্রমণ পণ্যের প্রচার ও বিপণন বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতাভিত্তিক কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে অনেক ভ্রমণপিপাসুর আগ্রহ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা পর্যটকদের মধ্যে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।

ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল। দেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, কার্নিভাল সংস্কৃতি, ফুটবল ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যময় নগরজীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

চীনের ভ্রমণপ্রেমী গুও তাও বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম রুটগুলোর একটি হওয়ায় আগে ব্রাজিল সফর অনেক দূরের মনে হতো। তবে ভিসামুক্ত নীতির কারণে মানসিক দূরত্ব অনেকটাই কমে গেছে।

তিনি বলেন, সাও পাওলোর অলিগলি ঘুরে দেখতে চান তিনি। সেখানে বসবাসরত চীনা সম্প্রদায় এবং চীন-ব্রাজিল সংস্কৃতির মিশ্রণও ক্যামেরাবন্দি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এদিকে, ব্রাজিল যখন চীনা নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ চালু করল, তখন ব্রাজিলিয়ান নাগরিকদের জন্য চীনের একতরফা ভিসামুক্ত নীতিরও প্রায় এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

চীনের এ নীতি ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। এর আওতায় সাধারণ পাসপোর্টধারী ব্রাজিলিয়ান নাগরিকরা ব্যবসা, পর্যটন, পারিবারিক সফর, সাংস্কৃতিক বিনিময় বা ট্রানজিটের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারছেন।

চায়না নিউজ ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীতি কার্যকরের পর থেকে চলতি বছরের সোমবার দুপুর পর্যন্ত সাংহাই বন্দর দিয়ে প্রায় ৮৫ হাজার ব্রাজিলিয়ান নাগরিক চীনে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পর্যটন, ব্যবসায়িক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন কারণে ব্রাজিলিয়ানদের চীন সফর বাড়ছে। এতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার হচ্ছে।