ইন্দোনেশিয়ার নর্থ মালুকু দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ট্রেকিং করতে যাওয়া তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং একজন স্থানীয় নারী রয়েছেন। নিরাপত্তা সতর্কতা উপেক্ষা করে পাহাড়ে ওঠার পর তারা অগ্ন্যুৎপাতের মুখে পড়েন।

শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে আগ্নেয়গিরিটির সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। সে সময় সেখানে ভোরের ট্রেকিংয়ে ছিলেন অন্তত ২০ সদস্যের একটি দল। পরে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে দলের বাকি সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, অগ্ন্যুৎপাতের পর ঘন ছাই প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে।

ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত দুই বিদেশি নাগরিক পুরুষ। তাদের বয়স ৩০ ও ২৭ বছর। নিহত স্থানীয় নারী পাশের শহর টারনেটের বাসিন্দা হলেও তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে আগেই মাউন্ট ডুকোনো এলাকায় প্রবেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে ওই ট্রেকিং দল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড়ে ওঠে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরিপ্রবণ অঞ্চল। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মাউন্ট ডুকোনোতে ২০০ বারের বেশি অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে এলাকাটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।