মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে ব্যাঘাতের প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিশ্বের জনপ্রিয় দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের পর্যটন খাতে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর পর্যটক প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশটির পর্যটননির্ভর অর্থনীতি নতুন চাপের মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে ইউরোপীয় পর্যটকদের বড় একটি অংশ দুবাই, দোহা ও আবুধাবি হয়ে মালদ্বীপে যাতায়াত করেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এসব ট্রানজিট রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে বুকিং বাতিলের সংখ্যা।

মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক দেশটিতে প্রবেশ করতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৪ থেকে ৫ হাজারে নেমে এসেছে। পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বড় পতন দেশটির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভ্রমণ অনিশ্চয়তা, ফ্লাইট বিলম্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রিসোর্ট, হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে মালদ্বীপের বৈদেশিক আয় ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। কারণ দেশটির অর্থনীতির বড় অংশই পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে জরুরি বৈঠক করেছে মালদ্বীপ সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিকল্প পর্যটন বাজার খোঁজা, নতুন ফ্লাইট রুট চালু এবং পর্যটন খাতে সহায়তামূলক নীতি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।