বছরের মাঝামাঝি সময় ভ্রমণের জন্য আদর্শ একটি জানালা। উত্তর গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মের রোদ, কিন্তু এখনও পিক সিজনের চড়া খরচ শুরু হয়নি। আর দক্ষিণ গোলার্ধে শুরু হয় শুষ্ক মৌসুম, যা প্রকৃতি উপভোগের দারুণ সুযোগ এনে দেয়। জুনে ছুটি পরিকল্পনা করলে কম ভিড়, তুলনামূলক কম খরচ এবং আরামদায়ক আবহাওয়া একসঙ্গে পাওয়া যায়।

১. বাজারুটো দ্বীপপুঞ্জ, মোজাম্বিক

মোজাম্বিক উপকূলের এই পাঁচ দ্বীপের সমষ্টি প্রকৃতির এক অনন্য ভান্ডার। জুনে এখানে শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়। জাতীয় উদ্যান ঘোষিত এই অঞ্চল ডলফিন, ডুগং, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও প্রায় দুই হাজার প্রজাতির মাছের আবাসস্থল। পরিষ্কার পানির নিচে রঙিন প্রবাল আর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়।

২. বোরাবোরা, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া

জুন থেকে এখানে শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়। ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, স্বচ্ছ নীল জল আর বিলাসবহুল ওভারওয়াটার রিসোর্ট মিলিয়ে এটি স্বপ্নের মতো গন্তব্য। প্রবাল বাগানে ডাইভিং ও স্নরকেলিংও সমান আকর্ষণীয়।

৩. রুয়ান্ডা

জুনে রুয়ান্ডায় শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়, যা গরিলা ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। ভলকানোস ন্যাশনাল পার্কে প্রশিক্ষিত গরিলা গ্রুপগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি কিগালি শহর, ন্যুংগুয়ে বন ও আকাগেরা জাতীয় উদ্যানও ঘোরার মতো।

৪. শেটল্যান্ড, স্কটল্যান্ড

উত্তর আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জে জুনে সূর্য প্রায় অস্ত যায় না। পাখির বিশাল কলোনি, সমুদ্রতীর আর প্রাচীন স্থাপনা মিলিয়ে এটি প্রকৃতি ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য।

৫. ওয়েস্টার্ন কলোরাডো, যুক্তরাষ্ট্র

জুনে গরমের তীব্রতা কম থাকায় র‍্যাঞ্চ লাইফ উপভোগের জন্য ভালো সময়। ঘোড়ায় চড়া, গবাদিপশু সামলানো ছাড়াও এখানে যোগব্যায়াম, রাফটিং, মাউন্টেন বাইকিংসহ নানা কার্যক্রম রয়েছে।

৬. ত্রিনিদাদ

মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এখানে লেদারব্যাক কচ্ছপের ডিম পাড়ার মৌসুম। জুনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার দৃশ্য দেখাও সম্ভব। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকত, উৎসব আর প্রাণবন্ত নাইটলাইফ উপভোগ করা যায়।

৭. গদান্স্ক, পোল্যান্ড

এক হাজার বছরের পুরোনো এই শহর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসের পর নতুন করে গড়ে উঠেছে। রেনেসাঁ স্থাপত্য, চার্চ, ঐতিহাসিক রাস্তা এবং কাছেই বাল্টিক সাগরের সৈকত ভ্রমণকে করে তোলে বৈচিত্র্যময়।

৮. নিকারাগুয়া

বর্ষার শুরু হলেও জুনে ভারী বৃষ্টি কম থাকে। জঙ্গল, পাখি, বানর ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখার জন্য এটি ভালো সময়। পাশাপাশি কর্ন আইল্যান্ডের স্বচ্ছ পানিতে স্নরকেলিংও জনপ্রিয়।

৯. অ্যাভেইরো ও কোইম্ব্রা, পর্তুগাল

কোইম্ব্রার ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহর এবং অ্যাভেইরোর খালনির্ভর পরিবেশ ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। জুলাইয়ের ভিড় শুরু হওয়ার আগেই জুনে এখানে ঘোরা আরামদায়ক।

১০. কেপ কড, যুক্তরাষ্ট্র

জুনে এখানে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে। বালুকাবেলা, লবস্টার, ক্ল্যাম ও নানা সামুদ্রিক খাবারের জন্য এই অঞ্চল বিখ্যাত। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনও হয় এই সময়ে।

১১. সিসিলি, ইতালি

ভূমধ্যসাগরের বৃহত্তম এই দ্বীপ ইতিহাস ও খাবারের জন্য সমান বিখ্যাত। গ্রিক, আরব ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে তৈরি এখানকার স্থাপত্য ও খাবার পর্যটকদের আকর্ষণ করে। জুনে ভিড় কম থাকায় ঘোরার জন্য আদর্শ সময়।

১২. সেনজা, নরওয়ে

আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে অবস্থিত এই দ্বীপে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সূর্য অস্ত যায় না। পাহাড়, সমুদ্র আর নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে দীর্ঘ দিনের আলো ভ্রমণকে করে তোলে অন্যরকম।