রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝেই ভিন্নধর্মী বিনোদনের খোঁজে যারা ঘুরতে চান, তাদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিজয় সরণির থ্রিডি আর্ট ওয়ার্ল্ড। অপটিক্যাল ইলিউশনের অভিনব উপস্থাপনায় এই গ্যালারিতে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা যেন বাস্তব আর কল্পনার মাঝামাঝি এক জগতে নিয়ে যায় দর্শনার্থীদের।

ঢাকার বিজয় সরণিতে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের এক্সিবিশন হলে গড়ে তোলা এই থ্রিডি আর্ট ওয়ার্ল্ড মূলত একটি ইলিউশনভিত্তিক গ্যালারি। দেয়াল ও মেঝেজুড়ে আঁকা বিশেষ থ্রিডি চিত্র নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল থেকে ক্যামেরায় ধারণ করলে তা জীবন্ত দৃশ্যের মতো মনে হয়। ফলে দর্শনার্থীরা নিজেদেরই ছবির অংশ হয়ে ওঠেন।

গ্যালারিতে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা যেন একটি কল্পনার জগতে ঢুকে পড়েন। এখানে এমনভাবে চিত্রগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে মনে হয় কেউ পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হচ্ছেন, আবার কেউ বিশাল ড্রাগনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ফটোগ্রাফির জন্য নির্দিষ্ট মার্কিং পয়েন্ট থাকায় সঠিক ভিউ পেলে ছবির ইফেক্ট আরও বাস্তবসম্মত হয়।

গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা মিরর মেজ। অসংখ্য আয়নার প্রতিফলনে তৈরি এই গোলকধাঁধায় পথ খুঁজে বের করা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয় দর্শনার্থীদের।

দেশি ও বিদেশি নানা থিমে সাজানো এই গ্যালারিতে রয়েছে আলিবাবার গুপ্তধনের গুহা, আলাদিনের জাদুর প্রদীপ, গ্রামীণ পান্তা-ইলিশের দৃশ্য কিংবা ফাইটার জেটে উড্ডয়নের মতো সেট। ফলে একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে ছবি তোলার সুযোগ মিলছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে থ্রিডি আর্ট ওয়ার্ল্ড। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০০ টাকা। তবে সামরিক জাদুঘরের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে গ্যালারিটিও বন্ধ থাকে।

যাতায়াতের ক্ষেত্রে মেট্রোরেল সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। যেকোনো স্টেশন থেকে উঠে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে কয়েক মিনিট হাঁটলেই জাদুঘর কমপ্লেক্সে পৌঁছানো যায়। এছাড়া ফার্মগেট বা বিজয় সরণিমুখী বাসেও সহজে যাওয়া সম্ভব।

খাবারের জন্য জাদুঘর প্রাঙ্গণেই রয়েছে নীহারিকা রেস্টুরেন্ট, যেখানে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি কফি ও হালকা নাস্তার জন্য একটি কফি শপও রয়েছে।

ভ্রমণে গেলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা ভালো। নির্দিষ্ট মার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুললে থ্রিডি ইফেক্ট ভালো পাওয়া যায়। ছুটির দিনে ভিড় বেশি থাকে, তাই স্বস্তিতে ঘুরতে চাইলে কর্মদিবসে যাওয়া সুবিধাজনক। সময় হাতে নিয়ে গেলে একই সঙ্গে সামরিক জাদুঘরও ঘুরে দেখা সম্ভব।