গরম থেকে স্বস্তি খুঁজতে পাহাড়মুখী ভ্রমণকারীদের কাছে মানালি দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে এই পর্যটনকেন্দ্র এখন শুধু একটি শহর নয়, একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার নাম। একদিকে আধুনিক, ব্যস্ত নতুন মানালি, অন্যদিকে নির্জন, গ্রামীণ আবহে ভরা পুরনো ভারতের মানালি। ভ্রমণ পরিকল্পনায় তাই অনেকেই প্রশ্নে পড়েন, কোনটিকে বেছে নেবেন।

হিমাচল প্রদেশের এই পাহাড়ি শহরটি এখন পর্যটকদের ভিড়ে প্রায় সারা বছরই মুখর। দেহরাদূন, মসুরি বা ঋষিকেশের পাশাপাশি গরমের ছুটিতে এখানে ভিড় আরও বাড়ে। বরফঢাকা পর্বতশৃঙ্গ, পাইন বন আর উপত্যকার দৃশ্য মানালিকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেই রয়েছে দুই ধরনের জীবনযাপন।

নতুন মানালি মূলত শহুরে আবহে গড়ে উঠেছে। মল রোড ঘিরে সারি সারি দোকান, ক্যাফে, হোটেল, রিসর্ট আর আলো ঝলমলে পরিবেশ এখানে নিত্যচিত্র। পর্যটকদের ভিড়, যানজট এবং ব্যস্ততা অনেকটাই বড় শহরের মতো। যারা কেনাকাটা, খাবার আর প্রাণবন্ত সন্ধ্যা উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে নতুন মানালি আকর্ষণীয়।

অন্যদিকে পুরনো মানালি যেন একেবারেই ভিন্ন এক জগৎ। মূল শহর থেকে মাত্র দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে হলেও এখানে এখনও টিকে আছে গ্রামীণ ছোঁয়া। কাঠের পুরনো ঘর, সরু পথ, আপেল বাগান আর পাহাড়ি নির্জনতা এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে হেঁটে চললে স্থানীয় জীবনযাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।

প্রকৃতির দিক থেকেও পুরনো মানালি অনেক বেশি শান্ত ও সজীব। পাইন ও ওক গাছে ঘেরা এই এলাকা নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত। যারা কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চান, তাদের কাছে এটি বেশি উপভোগ্য হতে পারে। নতুন মানালিতে পাহাড়ের দৃশ্য থাকলেও শহুরে শব্দ অনেক সময় সেই অভিজ্ঞতাকে ছাপিয়ে যায়।

কেনাকাটার ক্ষেত্রেও দুই জায়গার পার্থক্য স্পষ্ট। নতুন মানালিতে বড় বড় শোরুম ও ব্র্যান্ডের দোকান থাকলেও পুরনো মানালিতে ছোট গুমটি ও হস্তশিল্পের দোকান বেশি। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে তুলনামূলক কম দামে স্থানীয় পণ্য পাওয়া যায়।

থাকার ব্যবস্থাতেও রয়েছে ভিন্নতা। নতুন মানালিতে আধুনিক হোটেল ও বিলাসবহুল রিসর্ট বেশি। আর পুরনো মানালিতে হোমস্টে, ছোট হোটেল ও অতিথিশালায় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ মেলে। বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো জায়গা বেছে নেওয়া সম্ভব।

ঘোরার জায়গার তালিকাও সমৃদ্ধ। পুরনো মানালির আশপাশে হিডিম্বা মন্দির, মানু মন্দির, বশিষ্ঠ মন্দির, যোগিনী জলপ্রপাতসহ একাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। পাশাপাশি সোলাং ভ্যালি, সিসু জলপ্রপাত বা অটল টানেলও সহজেই ঘোরা যায়। কাছাকাছি দূরত্ব হওয়ায় এক জায়গায় থাকলেও অন্য জায়গাগুলো দেখা সম্ভব।

ভ্রমণের সময় ও পছন্দ অনুযায়ী পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে ভালো। পাঁচ দিনের সফরে তিন দিন পুরনো মানালিতে নিরিবিলি সময় কাটিয়ে বাকি দুই দিন নতুন মানালির ব্যস্ত জীবন উপভোগ করা যেতে পারে।