যান্ত্রিক নগরজীবনের ক্লান্তি কাটাতে রাজধানীবাসীর নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে আগারগাঁওয়ের একুরিয়াম পার্ক। রঙিন মাছ, বিশাল বার্ড এভিয়ারি, কৃত্রিম ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক আবহের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে প্রতিদিনই ভিড় করছেন পরিবার, শিশু ও তরুণ দর্শনার্থীরা। ঢাকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘরের ভেতরে অবস্থিত পার্কটি স্বল্প খরচে ভিন্নধর্মী বিনোদনের সুযোগ এনে দিয়েছে।

প্রবেশমুখ থেকেই দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায় কৃত্রিম পাহাড়, গুহা ও প্রায় ১০০ ফুট উঁচু ঝর্ণা। পুরো পরিবেশে সাজানো হয়েছে আলো-আঁধারি ও প্রকৃতিনির্ভর নকশায়, যা শহরের ভেতরেই অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে।

পার্কের অন্যতম আকর্ষণ একুরিয়াম জোন। এখানে বড় বড় কাঁচের একুরিয়ামে দেখা মিলবে সিলভার এরোয়ানা, গোল্ডফিশ, প্যারট ফিশ ও অস্কারসহ বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছ। প্রাকৃতিক স্কেপিং ও জলজ পরিবেশের কারণে দর্শনার্থীরা সহজেই মুগ্ধ হন।

এছাড়া রয়েছে টেরারিয়াম ও প্লান্টেড একুরিয়াম বিভাগ। ড্রিফটউড ও জীবন্ত জলজ উদ্ভিদ দিয়ে সাজানো নান্দনিক একুরিয়ামগুলো শুধু প্রদর্শনের জন্য নয়, আগ্রহীরা চাইলে কিনতেও পারেন।

একুরিয়াম পার্কের আরেক বড় আকর্ষণ ঢাকার অন্যতম বৃহৎ বার্ড এভিয়ারি। এখানে বাজরিগার, কোকাটেইল, ফিঞ্চ ও লাভ বার্ডের মতো শত শত পাখি মুক্তভাবে উড়ে বেড়ায়। শিশুদের কাছে এটি যেমন আনন্দের, তেমনি শিক্ষণীয়ও।

দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে প্রশিক্ষিত ম্যাকাও ও আফ্রিকান গ্রে প্যারটের সঙ্গে ফটোসেশনের ব্যবস্থা। হাতে বা কাঁধে পাখি নিয়ে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই স্মরণীয় হয়ে উঠছে।

একুরিয়াম পার্কে যেতে হলে প্রথমে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘরে পৌঁছাতে হবে। বাস, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি মেট্রোরেল ব্যবহার করেও সহজে সেখানে যাওয়া যায়। আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে জাদুঘরের গেট খুব কাছেই।

প্রবেশের জন্য প্রথমে বিমান বাহিনী জাদুঘরের ৫০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। এরপর একুরিয়াম পার্কে প্রবেশে আলাদা করে ১০০ টাকা দিতে হয়। পাখির সঙ্গে ছবি তুলতে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হতে পারে।

খাবারের জন্য জাদুঘর চত্বরে রয়েছে একাধিক ক্যাফেটেরিয়া ও ফুড কোর্ট। এছাড়া আগারগাঁও এলাকায়ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও স্ন্যাকস শপ রয়েছে।