ভ্রমণে বের হওয়ার আগে পোশাক বাছাই এখন অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির অংশ। শুধু দেখতে ভালো হলেই হয় না, পোশাক হতে হয় আরামদায়ক, হালকা এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের উপযোগী। বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রা, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ব্যাগে ভাঁজ করে রাখার বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাপড় নির্বাচন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভ্রমণসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নট এইট’-এর চিফ অব এক্সপেডিশন অ্যান্ড ট্রেইনার মামুন রনির মতে, ভ্রমণের জন্য এমন কাপড় বেছে নেওয়া উচিত যা হালকা, বাতাস চলাচল উপযোগী এবং কম যত্নেই ব্যবহার করা যায়।

তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় গাড়ি, ট্রেন বা বিমানে থাকার ক্ষেত্রে আরামদায়ক কাপড় শরীরের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ব্যাগে রাখলেও পোশাকের স্বাভাবিক গঠন ঠিক থাকে এমন কাপড় ভ্রমণে বেশি কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি কাপড় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি স্বস্তি দেয়। এসব কাপড় ঘাম শোষণ করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পরও অস্বস্তি তৈরি করে না। তাই গরমের ভ্রমণে হালকা ও শ্বাস-প্রশ্বাস উপযোগী কাপড়ের পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ভ্রমণের সময় আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো পোশাক কুঁচকে যাওয়া। ব্যাগ থেকে বের করার পর অনেক পোশাক পরার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এজন্য এমন কাপড় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোর টেক্সচার বা গঠন সহজে কুঁচকে যায় না কিংবা কুঁচকালেও তা খুব বেশি চোখে পড়ে না।

কম পোশাকে বেশি ব্যবহারযোগ্যতা এখন ট্রাভেল ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দিনের বেলা ঘোরাঘুরি থেকে সন্ধ্যার আড্ডা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় এমন পোশাক ভ্রমণে সুবিধা দেয়। এতে ব্যাগের জায়গাও কম লাগে।

ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, সঠিক কাট ও মানানসই কাপড় নির্বাচন করলে একই সঙ্গে পরিপাটি ও আরামদায়ক লুক তৈরি করা সম্ভব। এমন পোশাক চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে না এবং ছবি তোলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমেও স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।

আবহাওয়ার বিষয়টিও ভ্রমণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন পোশাক বেছে নেওয়া ভালো যা স্তর তৈরি করে পরা যায়। ঠাণ্ডায় অতিরিক্ত স্তর যোগ করা যায়, আবার গরমে সহজেই খুলে ফেলা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন কাপড় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ব্যবহারিক। এতে কম যত্নেই পোশাক দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়।