হোটেলের অবস্থান আনন্দদায়ক করতে কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন, ময়লা নির্দিষ্ট ঝুড়িতে ফেলা, ভালো সার্ভিসের জন্য বকশিস (টিপস) দেওয়া, কিংবা করিডোরে খালি পায়ে না হাঁটা।
তবে অনেক সময় চেক-ইন বা চেক-আউটের সময় ছোটখাটো কিছু ভুলের কারণে আপনার পুরো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তিক্ত হয়ে যেতে পারে।
বুকিং অ্যাপ 'হোটেল টুনাইট'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম শ্যাঙ্কের পরামর্শ অনুযায়ী, হোটেলের অবস্থান ঝামেলামুক্ত করতে বেশ কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চলতে হবে।
১. রিসোর্ট ফি বা অতিরিক্ত চার্জের দিকে নজর না দেওয়া
বর্তমানে হোটেলগুলোর জন্য অতিরিক্ত চার্জ লুকিয়ে রাখা বেআইনি হলেও, অনেক সময় বিলের শেষে 'রিসোর্ট ফি' যোগ করা হয়। শ্যাঙ্ক বলেন, এই চার্জগুলো আপনার থাকার খরচ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বুকিংয়ের সময় সব সময় জিজ্ঞাসা করুন এই ফি ঐচ্ছিক কি না। কখনও কখনও বিনয়ের সাথে অনুরোধ করলে তারা এটি মওকুফও করতে পারে।
২. আর্লি চেক-ইন বা লেট চেক-আউটের অনুরোধ না করা
আজকাল অনেক হোটেলেই চেক-ইন এবং চেক-আউটের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কড়াকড়ি কমছে। বিশেষ করে সরাসরি হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে বুক করলে আগেভাগে রুমে ঢোকা বা দেরিতে রুম ছাড়ার সুবিধা পাওয়া যায়। শ্যাঙ্ক-এর মতে, "ফ্রন্ট ডেস্কে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করলে এবং নির্দিষ্ট রুমের ধরণ নিয়ে খুব বেশি জেদ না করলে এই সুবিধা পাওয়া বেশ সহজ।"
৩. কোলাহলমুক্ত রুমের দাবি না জানানো
আপনি যদি হালকা ঘুমে অভ্যস্ত হন, তবে চেক-ইনের সময় সেটি জানাতে ভুলবেন না। শ্যাঙ্ক বলেন, "আমি নিজে হালকা ঘুমে অভ্যস্ত, তাই সব সময় লিফট থেকে দূরে, উপরের তলার এবং শান্ত দিকের রুমগুলো চেয়ে নিই।"
৪. ফ্রিতে 'আপগ্রেড' চাইতে দ্বিধা করা
অফ-সিজনে ভ্রমণ করলে হোটেল আপগ্রেড পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। চেক-ইনের দিন ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মীদের হাতে কিছু ভালো রুম বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষমতা থাকে। তাই হাসিমুখে তাদের কাছে ভালো কোনো রুম খালি আছে কি না তা জিজ্ঞাসা করুন।
৫. আপগ্রেডের জন্য অতিরিক্ত খরচ করা
যদি ফ্রিতে আপগ্রেড না পাওয়া যায়, তবে আপনি কিছু টাকা অফার করতে পারেন। তবে তা যেন খুব বেশি না হয়। শ্যাঙ্ক-এর মতে, আপনি রুমের জন্য যে ভাড়া দিয়েছেন তার ১০ শতাংশ অতিরিক্ত দেওয়ার প্রস্তাব করা একটি যুক্তিসঙ্গত নিয়ম।
৬. চেক-ইনের সময় যোগাযোগের তথ্য না দেওয়া
চেক-ইনের সময় আপনার ইমেইল ঠিকানা দিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে চেক-আউটের সময় লাইনে না দাঁড়িয়েই আপনি সরাসরি বেরিয়ে যেতে পারেন; হোটেল কর্তৃপক্ষ আপনার বিল বা 'ফলিও' ইমেইলে পাঠিয়ে দেবে যা আপনি পরে সুবিধামতো দেখে নিতে পারবেন।
৭. হাউসকিপিং কর্মীদের টিপস না দেওয়া
যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে হাউসকিপিং কর্মীদের বকশিস দেওয়া একটি সৌজন্যমূলক কাজ। বিশেষজ্ঞরা দিনে ২ থেকে ৫ ডলার টিপস দেওয়ার পরামর্শ দেন। প্রতিদিন দিতে ভুলে গেলেও অন্তত চেক-আউটের সময় রুমে কিছু টাকা রেখে আসা উচিত।
৮. শেষবার রুমটি ভালো করে চেক না করা
রুম ছাড়ার আগে চার্জার, পাসপোর্ট, ছোট গয়না বা মানিব্যাগ রয়ে গেছে কি না তা ভালো করে দেখে নিন। শ্যাঙ্ক বলেন, "আমি অসংখ্যবার হোটেলের রুমে চার্জার ফেলে এসেছি। তাই এখন আমি চেক-আউটের আগে প্রতিটি ইলেকট্রিক আউটলেট বা প্লাগ পয়েন্ট পরীক্ষা করি।"
৯. তাড়া থাকলেও চেক-আউটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা
আপনার কাছে সময় কম থাকলে এবং আগে থেকেই ইমেইল বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়া থাকলে ফ্রন্ট ডেস্কে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। অনেক হোটেলে কি-কার্ড জমা দেওয়ার ড্রপ বক্স থাকে, সেখানে কার্ড রেখে আপনি সরাসরি বেরিয়ে যেতে পারেন।
১০. বিস্তারিত বিল পরীক্ষা না করা
যদি আপনি ইমেইলের অপেক্ষায় থাকতে না চান বা আপনার ইনবক্স খুব অগোছালো হয়, তবে হাতে সময় নিয়ে সরাসরি ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে বিলের কপিটি সংগ্রহ করুন এবং প্রতিটি আইটেম বা চার্জ মিলিয়ে নিন।
সূত্র: ট্র্যাভেল অ্যান্ড লেইজার।