দেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হচ্ছে ২০২৬-২০৪০ মেয়াদি ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান’।

বুধবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এ কারণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মেগা প্ল্যানে পর্যটন খাতের জন্য একটি সুস্পষ্ট বিনিয়োগ রোডম্যাপ থাকবে। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি ভিত্তিক প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যটন নীতি হালনাগাদ করে খাতটিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্যটনে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, নীতিগত সহায়তা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার কথাও জানান মন্ত্রী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জন ট্যুর অপারেটর, ১ হাজার ২১৫ জন ট্যুর গাইড এবং ১ হাজার ৫২৭ জন স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৮৫ জনকে পর্যটন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি ২০২১-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে পর্যটন খাতে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কর্মরত আছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৭২ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

টেকসই পর্যটনের অংশ হিসেবে কুয়াকাটা ও উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং ইকো-ট্যুরিজম বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব, ঐতিহ্য ও হস্তশিল্প তুলে ধরার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, এসব উদ্যোগ দেশের সংস্কৃতি প্রচারের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটনের বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।