দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরকে ঘিরে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী এলাকায় বাড়ছে পর্যটকদের আগ্রহ। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এক থেকে দেড় হাজার মানুষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেখতে এলেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জোন হওয়ায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে দূর থেকে কেন্দ্রটি দেখে কিংবা ছবি তুলে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।

দর্শনার্থীদের দাবি, রূপপুর প্রকল্প, পদ্মা নদী, ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুকে ঘিরে পাকশী এলাকায় পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হতে পারে।

ঈশ্বরদীর পাকশী দীর্ঘদিন ধরেই রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে রেলওয়ের আঞ্চলিক সদর দপ্তর ছিল। এছাড়া শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু এবং পদ্মাপাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এলাকাটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই থেকে তিনশ বছরের পুরোনো নানা প্রজাতির বৃক্ষ ও নদীকেন্দ্রিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করলেও এখানে পর্যাপ্ত হোটেল, মোটেল কিংবা মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নেই। ফলে বেশিরভাগ দর্শনার্থীকেই দিন শেষে ফিরে যেতে হয়।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ঘুরতে আসা সুমাইয়া খাতুন বলেন, মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে পরিবার নিয়ে নৌকায় কেক কেটেছেন তারা। পরে পাকশীতে ঘুরতে এসে রূপপুর কেন্দ্র দূর থেকে দেখেছেন। তবে থাকার ব্যবস্থা না থাকায় একই দিন ফিরে যেতে হচ্ছে।

পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকার মিতা খাতুন বলেন, রূপপুরের আশপাশে ভালো মানের খাবারের হোটেল নেই। অনেক সময় কুষ্টিয়া বা গ্রীনসিটিতে গিয়ে খেতে হয়। তিনি পর্যটকদের জন্য উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাস জানান, পাকশী বা রূপপুর এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা আরও উদ্যোগ নেবেন।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

মঙ্গলবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হয়েছে।