শ্রমিক সংকট ও বাড়তে থাকা যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বিমানবন্দর পরিচালনায় নতুন প্রযুক্তির পথে হাঁটছে জাপান। দেশটির অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইনস বা জেএএল টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে মানবাকৃতির রোবট ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। দুই বছরের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় আগামী মে মাস থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ও ভারী কাজের দায়িত্বে যুক্ত হবে এসব রোবট।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএএল এবং তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান জিএমও এআই অ্যান্ড রোবোটিক্স সোমবার গণমাধ্যমের সামনে প্রযুক্তিটি প্রদর্শন করে। শুরুতে চীনে তৈরি মানবাকৃতির রোবটগুলো কার্গো কনটেইনার লোড ও আনলোডের কাজে ব্যবহৃত হবে।

জাপানের বিমান চলাচল খাত বর্তমানে বড় ধরনের শ্রমিক সংকটের মুখে রয়েছে। একদিকে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে দেশটির কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমছে। ফলে বিমানবন্দর পরিচালনা ও গ্রাউন্ড সার্ভিসে জনবল ঘাটতি বাড়ছে।

জেটিবি গ্রুপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই জাপানে ৭০ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছে। পর্যটন খাতের এই উল্লম্ফন বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

জিএমও এআই অ্যান্ড রোবোটিক্সের প্রেসিডেন্ট তোমোহিরো উচিদা বলেন, বাইরে থেকে বিমানবন্দরগুলো স্বাভাবিক ও সচল মনে হলেও ভেতরে তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। তার ভাষ্য, শারীরিক পরিশ্রমের কাজ রোবটের মাধ্যমে পরিচালনা করা গেলে কর্মীদের চাপ কমবে এবং কাজের দক্ষতাও বাড়বে।

জেএএলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় চার হাজার কর্মী রয়েছেন। ভবিষ্যতে রোবট দিয়ে কেবিন পরিষ্কার, গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম পরিচালনা এবং অন্যান্য সহায়ক কাজও করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্তভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এখনই পুরোপুরি রোবটের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। জেএএলের গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগের প্রেসিডেন্ট ইয়োশিতেরু সুজুকি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো সংবেদনশীল কাজ মানুষের তত্ত্বাবধানেই থাকবে।

জাপানের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এরই মধ্যে নিরাপত্তা টহল, তথ্য সহায়তা ও খুচরা বিক্রয়সহ নানা কাজে রোবট ব্যবহার হচ্ছে। নতুন এই উদ্যোগকে দেশটির বিমান খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।