মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আকাশপথে অস্থিরতার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য পর্তুগালে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই পর্যটক কমে যাওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন দেশটিতে পর্যটননির্ভর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে লিসবন ও আলগার্ভ অঞ্চলের রেস্তোরাঁ, আবাসন ও পরিবহন খাতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবে ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনের ঘটনায় ভ্রমণকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপমুখী পর্যটনে।
ফলে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীরাও ব্যয় কমানোর প্রবণতা দেখাচ্ছেন।
পর্তুগালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রেস্তোরাঁ, স্যুভেনির শপ, এয়ারবিএনবি ও ট্রান্সফার সার্ভিসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করেই তাদের বছরের বড় অংশের আয় নির্ভর করে। তবে এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
লিসবনের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ সময় সাধারণত পর্যটকদের ভিড়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। এবার আগের তুলনায় অনেক কম মানুষ আসছে। যারা আসছেন, তারাও খরচ কম করছেন। এতে ব্যবসায় চাপ বেড়েছে।”
আলগার্ভ অঞ্চলে হোটেল ব্যবসায় যুক্ত প্রবাসী উদ্যোক্তা কামরুল হাসান জানান, গত বছরের তুলনায় আগাম বুকিং ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অনেক কক্ষ খালি পড়ে আছে। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক পর্যটক শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ট্রাফিকের প্রায় ১৪ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ব্যবহার করে। এই অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে বিমান ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত যাতায়াতেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন খাত পর্তুগালের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দীর্ঘ সময় ধরে মন্দা অব্যাহত থাকলে তা কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ অবস্থায় পর্যটন খাতকে সচল রাখতে প্রচারণা ও প্রণোদনা বাড়ানোর চিন্তা করছে পর্তুগাল সরকার। তবে মৌসুমের শুরুতে যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরজুড়ে সংগ্রাম করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।