দীর্ঘ ট্রেনযাত্রা শুধু এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, অনেক ভ্রমণপিপাসুর কাছে এটি নিজেই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বিমানে কয়েক ঘণ্টার ভ্রমণে যে দৃশ্যপট চোখ এড়িয়ে যায়, ট্রেন সেখানে ধীরে ধীরে তুলে ধরে প্রকৃতির রূপান্তর, মানুষের জীবনযাপন এবং সংস্কৃতির বৈচিত্র্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন কিছু ট্রেনরুট রয়েছে, যেগুলো দূরত্ব ও অভিজ্ঞতা দুই দিক থেকেই ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের।
বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত দীর্ঘ রেলপথগুলোর একটি হলো রাশিয়ার ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে। মস্কো থেকে ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় এই ট্রেন। পুরো যাত্রা শেষ করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগে। পথে রাশিয়ার ইউরোপীয় অঞ্চল, ইউরাল পর্বতমালা, বিশাল বনাঞ্চল ও সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দেখা যায়। একাধিক টাইম জোন অতিক্রম করাও এই যাত্রার বিশেষ অভিজ্ঞতা।
কানাডার টরন্টো থেকে ভ্যাঙ্কুভার পর্যন্ত চলাচলকারী ‘দ্য কানাডিয়ান’ ট্রেনও দীর্ঘ ও দৃষ্টিনন্দন ভ্রমণের জন্য বিখ্যাত। প্রায় ৪ হাজার ৪৬৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে চার দিনের মতো সময় লাগে। অন্টারিওর বনাঞ্চল, প্রেইরি অঞ্চল এবং রকি পর্বতমালার অপরূপ দৃশ্য এই রুটকে আলাদা করেছে।
চীনের সাংহাই থেকে লাসা পর্যন্ত ট্রেনযাত্রা প্রায় ৪ হাজার ৩৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। সময় লাগে প্রায় ৪৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। আধুনিক নগরজীবন থেকে শুরু করে তিব্বতের উচ্চভূমি পর্যন্ত ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এই রুটের প্রধান আকর্ষণ। যাত্রাপথে ধীরে ধীরে উচ্চতা বাড়তে থাকে, যা ভ্রমণটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে পার্থ পর্যন্ত চলাচলকারী ‘ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক’ ট্রেন প্রায় ৪ হাজার ৩৫২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। চার দিন তিন রাতের এই ভ্রমণে যাত্রীরা ব্লু মাউন্টেইনস, খনিজ অঞ্চল ও নালারবর সমভূমির বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। বিশ্বের দীর্ঘতম সোজা রেললাইনগুলোর একটি এই রুটে রয়েছে।
এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ভারতের ‘বিবেক এক্সপ্রেস’ও। আসামের ডিব্রুগড় থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি পৌঁছায় তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে। প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় সময় লাগে তিন দিনেরও বেশি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা বাগান, নদীবিধৌত সমভূমি, বড় শহর ও দক্ষিণ ভারতের উষ্ণ আবহাওয়া মিলিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম বৈচিত্র্যময় রেলভ্রমণ হিসেবে পরিচিত।