অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে আছে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি সৈকত। প্রায় ৬০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই উপকূলরেখায় প্রতিটি সৈকতের আলাদা বৈশিষ্ট্য, আলাদা অভিজ্ঞতা। কোথাও বিশ্বমানের সার্ফিং, কোথাও নির্জন সাদা বালুর শান্ত সৌন্দর্য, আবার কোথাও সূর্যাস্তের মোহময় দৃশ্য। পর্যটকদের জন্য সুখবর, অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন সৈকত নেই, তাই সব সৈকতই উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে উপভোগযোগ্য।
নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে থেকে সেরা কিছু সৈকত বেছে নেওয়া কঠিন। তবু অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পাঁচটি উল্লেখযোগ্য সৈকতের কথা তুলে ধরা হলো।
বেলস বিচ, ভিক্টোরিয়া
সার্ফিংপ্রেমীদের কাছে এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা গন্তব্য। গ্রেট ওশান রোড অঞ্চলে অবস্থিত এই সৈকত তার শক্তিশালী ঢেউয়ের জন্য বিখ্যাত। দক্ষিণ মহাসাগরের ঢেউ এখানে এসে তৈরি করে দীর্ঘ ও শক্তিশালী রাইট-হ্যান্ড ব্রেক, যা অভিজ্ঞ সার্ফারদের জন্য আদর্শ। ১৯৬২ সাল থেকে এখানে নিয়মিত সার্ফিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইস্টার সময়ে ‘রিপ কার্ল প্রো’ আয়োজন সৈকতটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
লাকি বে, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া
সাদা বালুর সৈকতে ক্যাঙ্গারু দেখা যাবে—এমন অভিজ্ঞতা খুব কম জায়গাতেই মেলে। এসপারেন্স থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের এই সৈকতে সকালে গেলে স্থানীয় বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে বেশি। স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার, মাছ ধরা কিংবা জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে তিমি দেখার সুযোগও রয়েছে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বাতাস বেশি থাকায় কাইটসার্ফিং জনপ্রিয়।
মিন্ডিল বিচ, নর্দার্ন টেরিটরি
ডারউইনের এই সৈকত সূর্যাস্তের জন্য বিখ্যাত। বিকেলের দিকে এখানে বসে সূর্য ডোবার দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় করেন স্থানীয় ও পর্যটকরা। শুকনো মৌসুমে নিয়মিত বসে ‘সানসেট মার্কেট’, যেখানে খাবার ও হস্তশিল্পের নানা স্টল থাকে। তবে এখানে সাঁতারের সময় সতর্কতা জরুরি, কারণ মাঝে মাঝে লবণাক্ত পানির কুমিরের উপস্থিতি থাকতে পারে।
দ্য পাস, নিউ সাউথ ওয়েলস
বাইরন বে এলাকার এই সৈকত দীর্ঘ ঢেউয়ের জন্য পরিচিত। সার্ফারদের পাশাপাশি সাঁতারুদের কাছেও এটি জনপ্রিয়। কাছাকাছি ভিউ পয়েন্ট থেকে ডলফিন ও তিমি দেখার সুযোগ রয়েছে। আদিবাসী সংস্কৃতির ইতিহাস জানতে স্থানীয় গাইডেড ট্যুরও পাওয়া যায়, যা এই অঞ্চলের ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দেয়।
বন্ডাই বিচ, সিডনি
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত সৈকতগুলোর একটি। এখানে একই সঙ্গে পাওয়া যায় পরিবার, পর্যটক, সার্ফার ও লাইফগার্ডদের সরব উপস্থিতি। সৈকতের দুই প্রান্তে রয়েছে সমুদ্রের পানির সুইমিং পুল, যার মধ্যে ‘বন্ডাই আইসবার্গস’ বিশেষভাবে পরিচিত। তবে স্রোতের কারণে এখানে সবসময় নির্ধারিত পতাকার ভেতরে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়।