নেপালের হিমালয় ঘিরে ট্রেকিং এখন বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ। এভারেস্ট বেজক্যাম্প, অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্প, ল্যাংটাং ভ্যালি বা মরদি হিমালের মতো রুটে হাঁটার স্বপ্ন অনেকেরই। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া দুর্গম পাহাড়ি পথে নামলে ঝুঁকি বাড়ে। অভিজ্ঞ ট্রেকারদের পরামর্শে নেপালে ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে জানা জরুরি ১০টি বিষয় তুলে ধরা হলো।

কোথায় যাচ্ছেন তা জানুন
যে রুটে ট্রেকিং করবেন, তার উচ্চতা, পথের ধরন ও সময়কাল সম্পর্কে আগেভাগে ধারণা নিন। ভিডিও দেখে ও অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা করুন।

শারীরিক সক্ষমতা গড়ে তুলুন
প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা হাঁটার প্রস্তুতি থাকতে হবে। ট্রেকের আগে নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ওঠানামা এবং ৫ থেকে ১০ কেজি ওজন নিয়ে অনুশীলন সহায়ক।

উচ্চতায় অক্সিজেনের প্রভাব বুঝুন
উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে অক্সিজেন কমে যায়। অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্প ৪১৩০ মিটার এবং এভারেস্ট বেজক্যাম্প ৫৩৬৪ মিটার উচ্চতায়। দ্রুত ওপরে উঠলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই ধীরে ধীরে অভিযোজন জরুরি।

সঠিক সরঞ্জাম নিন
মানসম্মত ট্রেকিং বুট, গরম কাপড়, রেইনকোট ও স্লিপিং ব্যাগ অপরিহার্য। অনুপযুক্ত সরঞ্জাম দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

পারমিট নিশ্চিত করুন
নেপালের অধিকাংশ ট্রেকিং রুটে অনুমতি লাগে। এজেন্সির মাধ্যমে গেলে তারা ব্যবস্থা করে দেয়, একা গেলে আগে থেকেই সংগ্রহ করতে হবে।

অভিজ্ঞ গাইড নিন
নতুনদের জন্য গাইড নিরাপদ বিকল্প। অনেক রুটে গাইড বাধ্যতামূলকও। প্রয়োজনে পোর্টার নেওয়া যেতে পারে।

আবহাওয়ার খবর রাখুন
পাহাড়ে আবহাওয়া দ্রুত বদলায়। রোদেলা দিনও হঠাৎ বৃষ্টি বা তুষারপাতে রূপ নিতে পারে। তাই নিয়মিত আপডেট জরুরি।

পানি ও খাবারে সচেতনতা
উচ্চতায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করুন এবং সহজপাচ্য, শক্তিদায়ক খাবার নিন।

ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করুন
হিমালয়ে জরুরি উদ্ধার ব্যয়বহুল। হেলিকপ্টার রেসকিউ কাভারসহ বিমা ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

মানসিক প্রস্তুতি রাখুন
ট্রেকিং শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চ্যালেঞ্জও। ঠান্ডা, ক্লান্তি ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন
গন্তব্যে পৌঁছানোই সব নয়। প্রয়োজন হলে মাঝপথে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিন। শরীর খারাপ লাগলে ঝুঁকি নেবেন না।