পর্যটন খাতে মন্দা ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে এশিয়া ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ডের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা থাই এয়ারওয়েজ। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী মে মাস থেকেই ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে বিমান জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে যাত্রী চাহিদা কমে যাওয়ায় অপারেশনাল ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ধীরগতি দেখা যাওয়ায় এ ধরনের সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্যস্ত ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর রুটে দৈনিক ফ্লাইট পাঁচটি থেকে কমিয়ে চারটি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কম্বোডিয়ার নমপেন রুটেও ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এতে স্বল্প দূরত্বের আঞ্চলিক ভ্রমণে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী ৮ মে থেকে তাইওয়ানের কাওশিউং রুটে ফ্লাইট সম্পূর্ণ স্থগিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিউল, বেইজিং, হংকং ও সাংহাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। এসব রুটে যাত্রী চাপ কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপগামী রুটেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এবং সুইডেনের স্টকহোমে প্রতিদিনের পরিবর্তে এখন থেকে সপ্তাহে পাঁচটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এতে দীর্ঘপাল্লার ভ্রমণ সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
শুধু থাই এয়ারওয়েজ নয়, থাইল্যান্ডের অন্যান্য বিমান সংস্থাও একই পথে হাঁটছে। থাই লায়ন এয়ার, নক এয়ার ও থাই এয়ারএশিয়া ইতোমধ্যে তাদের কয়েকটি রুট স্থগিত করেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি পুরো এভিয়েশন শিল্পে ব্যয় সংকোচনের একটি ইঙ্গিত।
কাসিকর্ন রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এসব পরিস্থিতির প্রভাবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকের আগমন প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ফলে পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।